বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০
Online Edition

কালিয়াকৈরের কসমেটিক্স কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দগ্ধ আরো দুই শ্রমিকের মৃত্যু

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কসমেটিক্স তৈরীর কারখানায় ক্যামিকেলের সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দগ্ধ আরো দুই নারী শ্রমিক ঘটনার ৬দিন পর সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এরা হলো কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের কুয়ারচালা এলাকার আব্দুর রহিমের স্ত্রী নাজনীন বেগম (২৬) এবং একই উপজেলার ঠাকুরপাড়া এলাকার ফরমান আলীর মেয়ে ইসমত আরা (৩০)। নিহত নাজনীনের স্বামী আব্দুর রহিম (৩০) একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার হাসপাতালে মারা যায়। এর আগে দগ্ধ অপর শ্রমিক শেফালী আক্তার (৩০) গত বুধবার মারা যায়। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার কালিয়াকৈরের জামালপুর এলাকায় এফএস কসমেটিক্স লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকান্ডের ওই ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ ইসমত আরা সোমবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে ও সকাল ৭টার দিকে নাজনীন মারা গেছেন। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ পাঁচ জনের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ অপর শ্রমিক গাইবান্ধার ইমরান হোসেন (৩২) এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন ও মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ তানবীর আহমেদ জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জামালপুর এলাকায় এফএস কসমেটিক্স লিমিটেড কারখানায় পারফিউম, বডি স্প্রে, এয়ার ফ্রেশনার, এ্যারোসল, মেহেদী, সেভিং ফোম, সেভিং ক্রীম, ফেস ওয়াশ, হেয়ার কালার ও ক্রীমসহ বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী তৈরি করা হয়। এসব সামগ্রী তৈরীতে বিভিন্ন প্রকার ক্যামিকেল ব্যবহৃত হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে কারখানায় উৎপাদন কাজ চলাকালে ক্যামিকেল মিশ্রণের সময় সিএফসি (ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন) গ্যাসের একটি সিলিন্ডার হঠাৎ বিষ্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুন কারখানায় থাকা অন্যান্য ক্যামিকেলে ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে আরো কয়েকটি সিলিন্ডারের বিষ্ফোরণ ঘটে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে কারখানার ম্যানেজার জাকির হোসেন (৩৮), শ্রমিক শেফালী আক্তার (৩০), আব্দুর রহিম (৩০) ও তার স্ত্রী নাজনীন (২৬), ইসমত আরা (৩০), শিল্পী রাণী (২৮), লিটন মিয়া (৩৫) ও সুমন মিয়াসহ (৩০) অন্ততঃ ১১ জন দগ্ধ হয়। এলাকাবাসি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দগ্ধদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রেরণ করে এবং আগুন নেভায়। দগ্ধদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় তিন নারী ও দুই পুরুষ শ্রমিকসহ ৫জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার শেফালী এবং রবিবার ভোরে আব্দুর রহিম মারা যায়। দগ্ধ ও আহত অন্যদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন জানান, সিএফসি সম্পূর্ণরুপে হ্যালোজেনেটেড প্যারাফিন হাইড্রোকার্বন। যা কেবল কার্বন, ক্লোরিন এবং ফ্লোরাইন ধারণ করে এবং মিথেন, ইথেন এবং প্রোপেনের অস্থির ডেরিভেটিভ হিসেবে উৎপাদিত হয়। কারখানার ওই ঘটনা তদন্তে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফন কাফনের জন্য তাদের পরিবারকে বিশ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে। সোমবার ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। কারখানায় অগ্নিকান্ড ও হতাহতের ঘটনা তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। কমিটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো তদন্ত কাজ চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্যামিকেল মিশ্রণের সময় রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারনে বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের ওই ঘটনা ঘটে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ