মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

সাপাহারে প্রকাশনীর সাথে শিক্ষক সমিতির চুক্তিতে গ্রামারও নোটবই কিনতে হিমশিম খেতে হয় গরীব শিক্ষার্থীদের

গোলাপ খন্দকার সাপাহার (নওগাঁ) সংবাদদাতা: নওগাঁর সাপাহারে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মোটা অংকের টাকাতে গ্রামার বই,সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ গাইড বই সমিতির সাথে জড়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালাতে সাপাহার শিক্ষক সমিতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছে পুঁথিনিলয় প্রকাশনীর কাছে। সরকারের সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার হীন মানসে দেশের বিভিন্ন প্রকাশনী বাজারে নোট বই, গাইড বই বাজারজাত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় জেলার সাপাহার উপজেলায় পুঁথিনিলয় প্রকাশনীর কর্তৃপক্ষ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আয়ত্তে এনেছেন। জানা গেছে উপজেলার শিক্ষক সমিতিকে কন্টাক্ট করার জন্য বেশ কয়েকদিন থেকে দেশের লেকচার,পুঁথিনিলয়, পাঞ্জেরী, নবপুথিঘর ও অনুপম প্রকাশনী সহ আরো কিছু প্রকাশনীর লোকজন সাপাহার উপজেলা সদরে অবস্থান করে সমিতিগুলির সাথে দর কাষাকষি করে চলছিল।
অবশেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুঁথিনিলয় প্রকাশনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতিকে ১৮লক্ষ টাকা উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট প্রকাশনীর নোটবই গাইড বই ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করার চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছেন। উপজেলা শিক্ষক সমিতি মানুষ গড়ার কারিগরদের পুস্তক প্রকাশনীর সাথে এ ধরনের চুক্তিবদ্ধের  ঘটনা প্রকাশ হলে এলাকার অভিজ্ঞমহল তাদের ধিক্কার জানিয়েছেন। সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থায় দেশ যখন এগিয়ে চলেছে ঠিক সে মুহূর্তে কিছু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজদের হীন স্বার্থে পুথিগত ও মুখস্থ শিক্ষাব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলেও অনেকে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে যে, গ্রামারের মূল্য  ৩ থেকে সাড়ে ৩শ’টাকা মাধ্যমিক পর্যায়ে একটি গ্রামার বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬শ’টাকা বলেও জানা গেছে। অপর দিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কর্র্র্র্তৃপক্ষের সাথেও চুক্তি করার জন্য তারা বেশ জোরালো ভুমিকা রেখে যাচ্ছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে নাকি কমপক্ষে দুই তিনটি প্রকাশনীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে থাকে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ চুক্তিবদ্ধ ওই দুই তিনটি প্রকাশনীর বই কিনতে শিক্ষার্থীকে বাধ্য করে থাকেন বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না তবে যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রÑছাত্রী,অভিভাবকের সাথে কথা হলে তারা জানান প্রতিবছর বিদ্যালয়ের নির্ধারিত উল্লেখ করা বই কিনতে হিমশিম খেতে হয় কারণ অন্যান্য প্রকাশনির চাইতে দ্বিগুন দামে বইটি আমাদের ক্রয় করতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ