বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

তীব্র শীতে কাঁপছে দেশ ॥ বাড়ছে রোগবালাই

স্টাফ রিপোর্টার : সারাদেশে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে পাঁচের ঘরে। চলমান শৈত্যপ্রবাহ আরো এক থেকে দু’দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তবে শৈত্যপ্রবাহ কমে গেলেও ১০ তারিখ থেকে পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের অনুভূতি বিরাজ করবে সারাদেশে। টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কুয়াশা আর ঠাণ্ডায় কাজে বের হতে পারছেন না মানুষ। হাড় কাঁপানো শীতে গরম কাপড় আর আগুনের উত্তাপই মানুষের ভরসা। কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যান চালকদের। রাজধানীসহ দেশের জেলা-উপজেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, গতকাল রোববার সকাল ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানের উপর দিয়ে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা আরো এক-দু’দিন থাকতে পারে। তিনি বলেন, ৯ তারিখের পর শৈত্যপ্রবাহ কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ১০ তারিখের দিকে শীতের অনুভূতি কমবে। তবে পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের অনুভূতি থাকবে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া অঞ্চলের উপর দেয় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শ্রীমঙ্গল ও সীতাকুণ্ডসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগ এবং রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্ট অংশের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৫ দশমিক ৩, ঈশ্বরদীতে ৫ দশমিক ৫, চুয়াডাঙ্গায় ৫ দশমিক ৩, বদলগাছীতে ৬, যশোরে ৬ দশমিক ৩, সাতক্ষীরায় ৭, সৈয়দপুরে ৭ দশমিক ২, রংপুরে ৭ দশমিক ৫, কুমারখালীতে ৭ দশমিক ৬, বরিশালে ৭ দশমিক ৮, তাড়াশে ৮, খুলনায় ৮ দশমিক ৬, ময়মনসিংহে ৮ দশমিক ৭, সিলেটে ১০ দশমিক ৫, ঢাকায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজধানীসহ সারাদেশে শীত বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশু রোগীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
ঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্র জানায়, অক্টোবর থেকে ঠাণ্ডাজনিত কারণে রোগী আসছে। গত কয়েক দিন শীত বাড়ায় শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেশ বেড়েছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, হাঁপানি, সর্দি-জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা হাসপাতালে আসছেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের প্রকোপ বাড়ায় ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশুদের রোগবালাইও বেড়েছে। মৌসুমি এসব রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে জরুরি বিভাগে আসছেন অভিভাবকরা। রোগের ধরন বুঝে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া বা সিনিয়র কনসালট্যান্টের কাছে রেফার করা হচ্ছে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ