সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি ব্যবসায়ী সাইফুল হক

স্টাফ রিপোর্টার : এবি ব্যাংকের অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন ব্যবসায়ী সাইফুল হক। এর আগে দুই দফা তলবে দুদক তার সাড়া না পেলেও গতকাল সোমবার সকালে নিজেই সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হন। পরে কমিশনের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
সিঙ্গাপুর ও দুবাইভিত্তিক কোম্পানি পিনাকল গ্লোবাল ফান্ডের (পিজিএফ) সঙ্গে মিলে বিনিয়োগের নামে এবি ব্যাংকের ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে এই তদন্ত করছে দুদক। এ বি ব্যাংকের গ্রাহক আটলান্টিক এন্টার প্রাইজের মালিক সাইফুল হক ওই অর্থ পাচারে জড়িত ছিলেন বলে দুদক কর্মকর্তাদের সন্দেহ। স্কাই এভিয়েশন সার্ভিসেস লিমিটেড নামে আরেকটি কোম্পানির পরিচালক। তার ওই কোম্পানি বাংলাদেশে ফ্লাই দুবাইয়ের এজেন্ট।
এক সময় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে কাজ করা সাইফুলের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এ বি ব্যাংকে। তবে তিনি বিয়ে করেছিলেন বিএনপি নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের দ্বিতীয় মেয়েকে। আর মোরশেদ খান ওই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান। ফলে ব্যাংকের অনেক কাজেই সাইফুলের প্রভাব ছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর আগে শুল্কমুক্ত কোটায় সাইফুলের স্কাই এভিয়েশন সার্ভিসেস লিমিটেডের আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে জব্দ করেছিল।
এবি ব্যাংকের অর্থ পাচারের অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক, ছয় পরিচালক ও দুই সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। আর সাইফুল হককে হাজির হওয়ার জন্য গত বৃহস্পতি ও রোববার দুই দফা সময় দিলেও ওই দুই দিন তিনি যাননি। এই পরিস্থিতিতে দুদক কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন রোববার বলেন, “সাইফুল হক আমাদের কাছে আসেননি। সময় চেয়ে কোনো আবেদনও তিনি করেননি। এখন তার বিরুদ্ধে আইন অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে যেতে হবে।”
সাইফুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রোববার রাতে তিনি বলেন, “আমি  ক’দিন দেশের বাইরে ছিলাম, গতরাতে এসেছি। আগামীকাল অফিস চলাকালে আমি যাব।” তবে দুদকের সঙ্গে কথা বলার আগে অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে চাননি এই ব্যবসায়ী।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, এবি ব্যাংকের অর্থ পাচারের ওই ঘটনা ঘটে ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে। সে সময় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এম ওয়াহিদুল হক। মো. ফজলুর রহমান ও শামীম আহমেদ চৌধুরী ছিলেন এমডির দায়িত্বে। তাদের পাশাপাশি ব্যাংকের ফাইনাশিয়াল ইন্সটিটিউশন অ্যান্ড ট্রেজারি শাখার প্রধান আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হেড অব করপোরেট মাহফুজ উল ইসলাম, হেড অব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) মোহাম্মদ লোকমান, ওবিইউর কর্মকর্তা মো. আরিফ নেয়াজ, কোম্পানি সচিব মাহদেব সরকার সুমন ও প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা এমএন আজিমকে ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। আর এবি ব্যাংকের ছয় পরিচালক শিশির রঞ্জন বোস, মেজবাহুল হক, ফাহিমুল হক, সৈয়দ আফজাল হাসান উদ্দিন, রুনা জাকিয়া ও অধ্যাপক এম ইমতিয়াজ হোসাইনকে রোববার সকাল ৯টায় থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ বি ব্যাংকের দুই কোটি ডলার ও পিনাকলের আট কোটি ডলার মিলিয়ে ১০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করে তা দুবাইয়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয় ২০১৩ সালে। এরপর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি না নিয়েই এবি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে দুই কোটি ডলার পাঠিয়ে দেওয়া হয় আবুধাবির একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। পরে সেই টাকা আত্মসাত করা হয়। আর কথিত ওই বিনিয়োগ এবং অর্থ আত্মসাতের পেছনে আটলান্টিক এন্টারপ্রাইজের সাইফুল এবং তার বন্ধু দুবাইয়ের নাগরিক খুররম আবদুল্লাহর ভূমিকা ছিল বলে দুদক কর্মকর্তাদের ধারণা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ