বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২০
Online Edition

বড় জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

তামিম ইকবাল অপরাজিত ৮৪

রফিকুল ইসলাম মিঞা : ত্রিদেশীয় সিরিজে বড় জয় দিয়েই শুরু করেছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে ৮ উইকেটে। অবশ্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাশরাফিদের বড় জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামে। গতকাল বাংলাদেশের সামনে ব্যাটে-বলে দাড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে টাইগার বোলারদের বোলিং আক্রমনে ৪৯ ওভারে ১৭০ রানেই অলআউট হয়। আবার জয়ের জন্য ১৭১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে টাইগার ব্যাটসম্যানরা মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে টার্গেট ১৭১ রান করে ৮ উইকেটের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে খেলতে হয়েছে ২৮.৩ ওভার। ওপেনার তামিম খেলেন অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস।
জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ১৭১ রানের টার্গেটটা সহজই ছিল মশরাফিদের জন্য। আর প্রায় তিন বছর পর দলে জায়গা পেয়ে তামিমের সাথে ওপেন করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন এনামুল হক বিজয়। এই জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ তুলে নেয় ৩০ রান। তবে এনামুল  বিজয়ের বিদায়ে ভাংগে ওপেনিং জুটি। ১৯ রান করে সিকান্দার রাজার বলে এরভাইনকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। ১৪ বলে চার বাউন্ডারিতে তিনি করেন ১৯ রান। বিজয়ের সামনে তার ইনিংসটা আরো বড় করার সুযোগ ছিল। কিন্তু বিজয় সেটা পারেননি। বিজয়ের আউটে তামিমের সাথে ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নেমে দলকে ভালোই এগিয়ে নেন সাকিব আল হাসান। এই জুটি প্রথম ৫৯ বলে ফিফটি রানের পার্টনাশিপ গড়ে দলকে সহজ জয়ের দিকে নিয়ে যায়। ফলে এই জুটি ভাংগার আগে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ১০৮ রানে। সিকান্দার রাজার বলে এলবি আউট হওয়া সাকিবের বিদায়ে ভাংগে দ্বিতীয় উইকেট জুটি। আউট হওয়ার আগে সাকিব করেন ৩৭ রান। ৪৬ বলে ৫ বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল সাকিবের ৩৭ রানের ইনিংস। আর এই জুটির সংগ্রহ ছিল ৭৮ রান। সাকিবের বিদায়ে ওপেনার তামিমের সাথে জুটি করেন মুশফিকুর রহিম। এই জুটিই দলকে জয়ী করে মাঠ ছাড়েন। কারণ ২৮.৩ ওভারে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান করে। দলের পক্ষে ওপেনার তামিম ৮৪ রানে আর মুশফিক ১৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। গতকাল সাকিব ফিফটি রান করতে না পারলেও দলের হয়ে হাফসেঞ্চুরি করেন ওপেনার তামিম ইকবাল। ৩৬ রানে রিভিউ নিয়ে বেচে যাওয়া তামিম শেষ পর্যন্ত ৮৪ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন। ৯৪ বলে ৯ চার আর এক ছক্কায় সাজানো ছিল তামিমের ৮৪ রানের ইনিংসটি। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সিকান্দার রাজা একা নেন দুই উইকেট। এর আগে, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের হয়ে বোলিং শুরু করেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। প্রথম ওভারেরই দুই উইকেট তুলে নেন তিনি । শুন্য হাতে ফিরে যান জিম্বাবুয়ের ওপেনার সলোমন মির ও ক্রেইগ আরভিন। ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যাওয়া জিম্বাবুয়েকে পরবর্তীতে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার হ্যামিল্টন মাসকাদজা ও সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে দলের স্কোর বড় করছিলেন তারা। কিন্তু এই জুটিকে বড় হতে দেননি অধিনায়ক মাশরাফি। ২টি চারে ২৪ বল মোকাবেলায় ১৫ রান করা মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে দিয়ে  জুটি ভাঙ্গেন  মাশরাফি। আউট হওয়ার আগে  দ্বিতীয় উইকেটে টেইলরের সাথে ২৮ রান যোগ করেন মাসাকাদজা। মাসাকাদজা ফিরে যাবার পর নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারেননি টেইলরও। মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম শিকার হবার আগে ২৪ রান করেন টেইলর। ফলে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৫১। এ অবস্থায় জিম্বাবুয়ের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম। সাকিবের সাথে বোলিং উদ্বোধন করা সানজামুল ১৩ রানে থাকা ম্যালকম ওয়ালারকে শিকার করেন। ওয়ালারের পর পিটার মুরকে নিয়ে জিম্বাবুয়ের রানা চাকা সচল রাখেন গত মাসে বিপিএল খেলা সিকান্দার রাজা। ফলে জিম্বাবুয়ের স্কোর পেরিয়ে যায় শতরানের কোটা। এই দু’জনের জুটি  কিছুটা চিন্তার কারণে হয়ে দাঁড়ায় টাইগারদের জন্য। তবে ৪০তম ওভারের প্রথম বলে রান আউটের ফাঁেদ পড়েন রাজা। সাকিবের নৈপুন্যে রান আউট হবার আগে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন রাজা। তার ৯৯ বলের ইনিংসে ২টি করে চার ও ছক্কা ছিলো। রাজা ফিরে যাবার পর বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং-এ ১৭০ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ৯ রানের ব্যবধানে সফরকারীদের শেষ ৪ উইকেট তুলে নেন সাকিব-রুবেল ও  মোস্তাফিজুর রহমান। এরমধ্যে দু’টি উইকেট ছিলো রুবেলের। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মুর ৩৩, ক্রেমার ১২, চাতারা শুন্য ও মুজারাবানি ১ রান করে আউট হন। বাংলাদেশের সাকিব সর্বোচ্চ ৩টি, মুস্তাফিজুর ও রুবেল ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন সানজামুল ও মাশরাফি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
জিম্বাবুয়ে-------১৭০/১০ (৪৯ ওভার)
বাংলাদেশ------১৭১/২ (২৮.৩ ওভার)
বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ