রবিবার ৩১ মে ২০২০
Online Edition

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে -হারুন অর রশীদ খান

রানা প্লাজা দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ -সংগ্রাম

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল হারুন অর রশীদ খান বলেছেন, মালিক পক্ষের দায়িত্বহীনতা ও অতি মুনাফাখোরীর কারণেই ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজার মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে এক হাজারেরও অধিক শ্রমিকের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছিল এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত; বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বিকলাঙ্গও হয়েছিলেন।  যা বিশ্ব ইতিহাসে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর সরকার বা মালিকপক্ষ নিহতদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দেয়নি বা দুর্ঘটনায় আহতদের পুনর্বাসন করা হয়নি। তিনি দুর্ঘটানায় নিহত শ্রমিকদের মাগফিরাত ও ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণ কামনায় দোয়া এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত রানাপ্লাজা দিবস উপলক্ষে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও  সেক্রেটারি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম। উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা আবু হানিফ, মঞ্জুর আহমেদ ও আবু নাঈম প্রমুখ।
অধ্যাপক হারুন বলেন, রানা প্লাজায় প্রায় ৫০০০ শ্রমিক কাজ করলেও ভবনটি অতসংখ্যক লোকের কর্মক্ষেত্র হিসেবে মোটেই উপযোগী ছিল না বরং অতি মুনাফা লাভের আশায় ভবনটি অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে রানা প্লাজা নির্মাণ করার আগে জায়গাটি ছিল পরিত্যক্ত ডোবা। ভবন নির্মাণ করার আগে বালু ফেলে এটি ভরাট করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর বরাতে জানা যায় যে, ভবনের উপরের চার তলা অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। ২৩ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে ফাটল নিশ্চিত হওয়ার পর ভবন ছেড়ে চলে যেতে বলা  সত্ত্বেও, অনেক গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরের দিন কাজে ফিরতে বাধ্য করা হয়। তাই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায়ভার সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও মালিক পক্ষ কোন ভাবেই এড়াতে পারে না। তিনি নিহত ও আহতদের পরিসংখ্যান তৈরি করে তাদের অনুকূলে যথাযথ ক্ষতিপূরুণ ও পুনর্বাসনের আহবান জানান।
তিনি বলেন, দেশের যেকোন ক্রান্তিকালে শ্রমিক সমাজ অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। তাই শ্রমিক সমাজকে উপেক্ষা করে জাতীয় উন্নয়ন কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের যোগ্যতর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আর শ্রমিক সমাজের দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য অধ্যবসায়ের কোন বিকল্প নেই। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে শিক্ষিত জনশক্তি ছাড়া কোন দেশের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সকল প্রকার ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত ও হিংসা বিদ্বেষ এর মোকাবেলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ