শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

ডুমুরিয়ায় দুই বিলের অর্ধশত বিঘা জমির কাটা ধান পানির নিচে

খুলনা অফিস : ঘন ঘন কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঠ ভরা পাকা বোরো ধান নিয়ে যখন বিপাকে কৃষক, ঠিক সেই মুহূর্তে স্লুইচ গেট দিয়ে লবণ পানি ঢুকিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে বিল কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। গত রোববার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার কেওড়াতলা স্লুইচ গেট খুলে এ পানি ঢুকানো হয়। এতে রাতের মধ্যে রুদাঘরা ইউনিয়নের তাওয়ালিয়া ও কেওড়াতলা বিলের অন্তত ৫০/৬০ বিঘা জমির কাটা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।    
সরেজমিন ভুক্তভোগী কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি বোরো মওসুমে কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে কৃষক। সকালে রোদ হলেও বিকেলে নামছে বৃষ্টি। তার সাথে প্রচন্ড ঝড় আবার কখনো হচ্ছে শিলা বৃষ্টি। এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বিল কমিটির সভাপতি মতলেব গোলদারসহ তার কতিপয় সহযোগী গত রোববার সকালে কেওড়াতলা চার ভেন্টের স্লুইচ গেট খুলে দেয়। যা ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এদিন সন্ধ্যার আগেই হরি নদীর পার্শ¦বর্তী শতশত বিঘা পাকা বোরো ক্ষেতে লবণ পানি প্রবেশ করে হাটু পানি হয়ে যায়। ইতোমধ্যে ওই বিলের কৃষক মোস্তফা গাজী, তুহিন সরদার, ফেরদৌস গাজী, নিরঞ্জন গাইন, আনার গাজী, রহিমা বেগম ওরফে খুকু, গফ্ফার সরদার, সানু সরদার, আশরাফ সরদার, তুহিন সরদার, আজিজুল বিশ্বাস, নওশের বিশ্বাস, নজরুল গাজী, গাউস গাজী, শাহাদাৎ সরদারসহ অর্ধশত কৃষকের অন্তত ৫০/৬০ বিঘা জমির কাটা ধান ভেসে গেছে। সকাল থেকে যে যার মতো ঘেরে পাম্প মেশিন লাগিয়ে পানি নিষ্কাশন করছে। কেউবা পানিতে ভেজা ধানের পাজা সরিয়ে উঁচু জায়গাতে রাখছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোস্তফা গাজী জানান, ‘আমার প্রায় এক বিঘা জমির ধান কেটে দুইদিন ছেড়ে দেয়েছি। নদীতে হঠাৎ পানি বেশি হওয়ায় ঘেরের বাঁধ উপচে ভিতরে ঢুকেছে। সমস্ত শুকনো ধানগুলো এখন পানির নিচে।’ শোলগাতিয়া ব্লক সুপারভাইজার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাকিম সরদার জানান, ‘তাওয়ালিয়া ও কেওড়াতলা বিল মিলে ১০০ হেক্টর জমিতে চলতি বোরো আবাদ হয়েছে। শুনেছি রাতে কে-বা-কারা নদীতে পানি তুলেছে। তবে কেমন ক্ষতি হয়েছে না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
এদিকে ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষে আব্দুস সাত্তার সরদার নামে এক কৃষক সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে প্রতিকার চেয়ে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিল কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে বিল কমিটির সভাপতির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, জেলেদের মাছ ধরার জন্য স্লুইচ গেট খুলে পানি সরবরাহ করানো হয়েছে। এ কাজে বিল কমিটির নেতৃবৃন্দের একটি লভ্যাংশ হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ