মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২০
Online Edition

পাহাড়ে আওয়ামী লীগের লালিত সন্ত্রাসীরাই রক্তাক্ত ঘটনা ঘটাচ্ছে -বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : অবিলম্বে দলের চেয়ারপার্সন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি। সেইসাথে দলটি বলেছে, পাহাড়ে আওয়ামী লীগের লালিত সন্ত্রাসীরাই রক্তাক্ত ঘটনা ঘটাচ্ছে। আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী নিজেরাই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত। পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে মদত দিয়ে আওয়ামী লীগ গোটা পাহাড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মস্তিস্কে আঁধার নেমেছে বলেই তিনি লাগামছাড়া বক্তব্য দিচ্ছেন।
গতকাল রোববার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে পাহাড়ে রক্তপাত বিএনপি-জামায়াতের ইঙ্গিতে হচ্ছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা পাহাড়ে ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির এই নেতা বলেন, মনে হয় হাসান মাহমুদ ছুটিতে গেছেন, আর সেজন্য আরেকজন অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের উপরই পড়েছে সব ফালতু ও উদ্ভট কথা বলার দায়িত্ব। আওয়ামী সাধারণ সম্পাদকের মস্তিস্কে আঁধার নেমেছে বলেই লাগামছাড়া বক্তব্য দিচ্ছেন। শুধু পাহাড় কেন দেশের সকল জনপদে রক্তপাতের জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ। কারণ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হাতে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। তারাই হাজার হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছে এবং বেআইনী অস্ত্র মজুদ রাখার অধিকার দিয়েছে দলীয় সন্ত্রাসীদের। আর এসব মজুদকৃত অস্ত্রের পাহারাদার হিসেবে রাখা হয়েছে গাজীপুরের এসপি হারুনুর রশীদের মতো পুলিশ কর্মকর্তাদের।
রিজভী বলেন, বর্তমান আওয়ামী যুগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শাসকদের চোখের ইঙ্গিতে নড়াচড়া করে বলেই দেশব্যাপী রক্তাক্ত সহিংসতার এতো ভয়ানক তাণ্ডব। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে শেখ হাসিনার দেশবিরোধী নীতির কারণেই পাহাড়ে রক্ত ঝরছে। এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী।
তিনি ওবয়াদুল কাদেরের উদ্দেশে বলেন, আপনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা বলেছেন। আপনারাতো আন্দোলন দমাতে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর গুলি করে, লাঠিপেটা করে, পায়ের রগ পর্যন্ত কেটে গ্রেফতার করে ব্যর্থ হয়ে নাকে খত দিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু ওই ঘোষণা পর্যন্তই, এখনো পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ না করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ^াস ভঙ্গ করছেন। কাদের সাহেব, ধূর্তামী ও শঠতার বক্তব্য আর এদেশে চলবে না।
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, আমরা বার বার বলছি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইউনাইটেড হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার তার চিকিৎসা নিয়ে রহস্যজনক আচরণ করছে। গত শনিবারও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আইনজীবীরা দেখা করেছেন। তারাও দেখা করে এসে বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আসলে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বন্দী করে রেখে সরকার প্রধান নিষ্ঠুর উল্লাসে মেতে উঠেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও সরকার প্রধানের নির্দেশে তার জামিন আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি কারাগারে পরিত্যক্ত ভবনে স্যাঁতস্যাঁতে শীর্ণ-জীর্ণ পরিবেশে থেকে বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে তার পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসা না দেওয়ায় সরকার প্রধানের ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত এখন সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি।
দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, গতকাল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় গাজীপুর জেলা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সভাপতি রায়হান আল মাহমুদ এবং ১৭ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় গাজীপুর যুগীতলা বিএনপি কর্মী মনির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। এর আগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও কাউন্সিলর প্রার্থী মাহমুদ হাসান রাজুর বাসা ঘিরে রেখে ডিবি পুলিশ তল্লাশির নামে তার পরিবারের সদস্যদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে।
এছাড়া গাজীপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিএনপির সক্রিয় কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ডিবি পুলিশ হুমকি ধামকি দিচ্ছে। গ্রেফতার করা, ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এই অনাচারগুলোর জন্য দায়ী এসপি হারুন। আমি এই গ্রেফতার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হুমকি-ধামকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। এসপি হারুনকে গাজীপুরে রেখে কোনোদিন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
ওদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের খালিশপুরে ৭নং ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী সুলতান মাহমুদ পিন্টুকে লক্ষ করে দুই রাউন্ড গুলী ও তিনটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। এটি একটি ভীতিকর ও ভোটারদেরকে আতঙ্কিত করার ঘটনা। চারিদিকে রক্তাক্ত হিংসার ছবি ফুটে উঠছে।
তিনি বলেন, দুই সিটিতে আওয়ামী লীগের কর্মীদের হাতে হাতে বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের মজুদ রয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর বৈধ অস্ত্র জমা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতা থাকলেও ইসি তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে একদিকে ক্ষমতাসীনদের হাতে হাতে অস্ত্র অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়ন। এই সাঁড়াশি আক্রমণের মধ্যে দুই সিটিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে নির্বাচন দিনকে দিন ভয়াল রূপ ধারণ করছে।
নির্বাচনকে ভীতিমুক্ত করতে চায় না বলেই ইসি এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এটি সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়। ভোটের দিন আসার পূর্বেই দুই সিটিতে রাষ্ট্রীয় মদদে সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি সভ্য সমাজে অনভিপ্রেত। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে আবারো নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানাচ্ছি।
নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনারা মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর চরিত্রে অভিনয় করবেন না। আপনাদের আচরণে মনে হয়-আপনাদেরকে অদৃশ্য সরকারি গুন্ডামীর ভয় আপনাদের তাড়া করছে। আপনারা সাহসিকতার সাথে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। অবিলম্বে গাজীপুরের এসপি হারুন এবং খুলনার পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরকে প্রত্যাহার করুন। নইলে উক্ত দুই সিটি কর্পোরেশনে ইলেকশন হবে না, ভোটের দিন সিলেকশন হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে দুই সিটিতে সেনা মোতায়েন করুন।
রিজভী জানান, ভোলা জেলায় সাবেক এমপি ও মন্ত্রী মোশারফ হোসেন শাহজাহানের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালিতে পুলিশ হামলা চালিয়ে ট্রাক উঠিয়ে দেয়। এতে ৬ জনের অধিক বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপানসহ ৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা নজীরবিহীন। আমি এঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এছাড়া পাবনা যুবদল সভাপতি শেখ তুহিনকে পুলিশ গ্রেফতার করায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করেন রিজভী।বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম, মনির হোসেন ও বেলাল আহমেদ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ