শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

লেবাননের পার্লামেন্ট নির্বাচনে হিজবুল্লাহ জোটের জয় হলেও প্রধানমন্ত্রী হবেন সাদ হারিরি

৭ মে, রয়টার্স : লেবাননের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইরান সমর্থিত শিয়া রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও এর মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো অর্ধেকেরও বেশি আসনে জয়ী হয়েছে বলে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে।

দেশটির রাজনীতিকরা ও গণমাধ্যম গত রোববারের নির্বাচনের বেসরকারি এ ফলাফল তুলে ধরেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা। এতে দেখা গেছে, ব্যাপক অস্ত্রে সজ্জিত ওই শিয়া গোষ্ঠীটির সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রোববারের এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে।

নয় বছর পর অনুষ্ঠিত এ পার্লামেন্ট নির্বাচনের বেসরকারি এ ফলাফল চূড়ান্ত গণনার পর সরকারিভাবে নিশ্চিত হলে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে হিজবুল্লাহ। লেবাননে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী অবস্থান আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ইরানের কর্তৃত্বকে আরও বিস্তৃত করবে বলে ভাষ্য রয়টার্সের। এর মাধ্যমে ইরানের প্রভাব ইরাক ও সিরিয়া হয়ে বৈরুত পর্যন্ত পৌঁছে যাবে বলে মন্তব্য বার্তা সংস্থাটির।

হিজবুল্লাহ লেবাননের প্রতিবেশী ইসরায়েলের শত্রু এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’। বেসরকারি ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, লেবাননের পশ্চিমা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি দেশটির সুন্নি মুসলিমদের নেতা হিসেবে উঠে আসছেন। লেবাননের ১২৮ আসনের পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় জোটের নেতৃত্বে আছেন তিনি। লেবাননের সম্প্রদায়ভিত্তিক ক্ষমতার অংশীদারিত্ব পদ্ধতি অনুযায়ী সুন্নি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী হবেন। দেশটির সরকার পদ্ধতি সংসদীয় পদ্ধতির হওয়ায় রফিক হারিরই দেশটির পরবর্তী সরকার প্রধান হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এবারের নির্বাচনে নিজের মূল শক্তিকেন্দ্রের কয়েকটি আসন হারাতে হয়েছে তাকে।

বিগত সরকারের মতো নতুন সরকারও প্রধান দলগুলো নিয়েই গঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কে কোনো মন্ত্রণালয় পাবেন তা ঠিক হতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

কট্টর হিজবুল্লাহ বিরোধী খ্রিস্টান রাজনৈতিক দল লেবানিজ ফোর্স এবারের নির্বাচনে আগের চেয়ে ভাল ফল করেছে। বেসরকারি ফলাফলে তারা ১৫ আসনে জয় পেয়েছে, যেখানে ২০০৯ সালের নির্বাচনে তারা ৮টি আসন পেয়েছিল। অপরদিকে হিজবুল্লাহ ও তার মিত্র রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অন্তত ৬৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন। হিজবুল্লাহর মিত্র পার্লামেন্টের বর্তমান স্পিকার নাবিহ বেররির নেতৃত্বাধীন শিয়া আমল মুভমেন্ট, দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের নেতৃত্বাধীন দ্য খ্রিস্টিয়ান ফ্রি প্যাট্রোয়েটিক মুভমেন্ট ও অন্যান্যরা হিজবুল্লাহর অস্ত্রকে লেবাননের জন্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে।

হিজবুল্লাহর সমর্থিত সুন্নি প্রার্থীরা হারিরির দল ফিউচার মুভমেন্টের শক্তিকেন্দ্র রাজধানী বৈরুত, ত্রিপোলি ও সিডনে ভাল করেছে। এসব এলাকায় হারিরির দল আসন হারানোয় হিজবুল্লাহপন্থি আল আখবার সংবাদপত্র তাদের প্রথম পাতার প্রতিবেদনে এই ফলাফলকে হারিরি জন্য ‘চপেটাঘাত’ বলে মন্তব্য করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ