শনিবার ৩০ মে ২০২০
Online Edition

বিশ্বকাপ ফুটবল মানে খুশির উৎসব

মোহাম্মদ সুমন বাকী : জনপ্রিয় খেলা কোনটি। এমন প্রশ্নের উত্তরে সবাই বলবেন ফুটবল। অবশ্যই সেটা খুশির উৎসবের ধারায় নিজেদের ভাসিয়ে দিয়ে। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ক্রীড়া জন্মলগ্ন থেকে খুবই জনপ্রিয়। তা সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটে। ইংল্যান্ডকে ফুটবলের জনক অভিহিত করা হয়। যারা এ খেলার আবিষ্কার করে। ইতিহাস লিখতে হলে সকলের সামনে তাদেরকে দাঁড় করাতে হয়। ব্যস, এটুকু পর্যন্তই বৃটিশ প্রচার সীমাবদ্ধ। সেটা সূচনার বিষয় পর্যালোচনা করে। যা ঘটে বহু যুগ আগে। কয়েক শতাব্দীর প্রেক্ষাপটে। এই অবস্থায় গোল বল  হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীনতম ক্রীড়া। তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে কি? খেলা পাগল ভক্তরা কি অভিমত রাখবেন এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে? ইতিহাস পর্যালোচনায় বৃটিশদের পাশাপাশি টোটাল ফুটবলের জনক হিসেবে দাঁড় করাতে হয় হল্যান্ডকে। এ দেশ বিশ্বের মানচিত্রে নেদারল্যান্ড নামেও পরিচিত। তবে সাফল্য বিচারে অনেকদূর পিছিয়ে রয়েছে তারা। ফুটবলের মহা আসর বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট। চোখ বুঝে বলা যায়, সেটা সারা পৃথিবীর সেক্সি আকর্ষন। ব্রাজিলের সাম্বা নৃত্য ঘেরা নারী দর্শক অন্যতম উদাহরন। যা টিভির পর্দায় বার বার ভেসে উঠে। বক্ষ উম্মুক্ত নাচের ও ড্রাম বাজনার দৃশ্যের তালে তালে। তা নতুন কিছু নয়। বৃহৎ আসরে এটা আকর্ষনের ফুলকি। সেটা পাইয়ে দেয় একের পর এক উত্তেজনা। যা ঘিরে থাকে গ্যালারীর আসনে। ধীরে ধীরে তা ভর করে দর্শকের শরীরে। ময়দান এবং দর্শকের ছায়াতলে এমন দৃশ্য যে কতবার ফুটে উঠেছে এর হিসেব করাটাও বর্তমান সময়ে খুবই কঠিন। আপনারা কি বলেন? ব্রাজিলের সাম্বা নৃত্য মানেই গোল বলের সাইড আকর্ষণ। সে কথা বলাবাহুল্য। নৃত্য দেখা যায় কখন? প্রশ্নের মাঝে উত্তর, সবুজ ঘাসের মাঠে নান্দনিক নৈপূণ্য প্রদর্শিত হয় যখন। এ পরিস্থিতিতে বল জালে স্পর্শ করলেতো কোনো কথাই নেই! একেবারে হৈ চৈ এর বাহার। উৎসব, খুশির সমাহার। সেটা শুধুমাত্র ময়দান, গ্যালারী নয়, পুরো বিশ্বকে এক পলকে গরম করে তুলে। এতো আকর্ষন ঘেরা বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড একবার ফাইনাল খেলে শিরোপা জিতে! ভাগ্য ফেবারে নাই!! তা কাদের বেলায় ঘটেছে? সোজা উত্তর, ডাচ টিম গোল বলের টোটাল জনক হল্যান্ডকে ঘিরে এমন দুঃখজনক দৃশ্য দেখা গেছে। যা অবাক করার মতো কান্ড! সেটা উল্লেখ করতেই হয়। হল্যান্ড ফুটবল দল বিশ্বকাপের জমকালো আসরে ফাইনাল খেলেছে কয়েকবার। কিন্তু তারা শিরোপা জয়ের মহাস্বাদ পায়নি কখনো। এর বিনিময়ে রানার্স আপ ট্রফি ঘরে তুলে। সান্ত¦না নয় যেন এটা। বলা যায়, দুঃখের বিশাল কাহিনী টোটাল ফুটবলের জনকদের জন্য। তা নিশ্চিতভাবে বজায় থাকবে এবারও। কারণ ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি হল্যান্ড (নেদারল্যান্ড)। পক্ষান্তরে ইংরেজরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। যা কাজে লাগাতে মাঠে শতভাগ নৈপূণ্য প্রদর্শন করতে হবে। এই অবস্থায় বিশ্বকাপের আসন্ন আসরের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইংল্যান্ড নাম লিখিয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সূচনা হয় ১৯৩০ সালে। এর আয়োজক উরুগুয়ে। তখন থেকে ইউরোপ-ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের লড়াই শুরু। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিলো আকর্ষনে ভরপুর। তা সকলেরই বোধগম্য। অবশ্যই সেটা ইতিহাসকে পুঁজি করে। যা মিডিয়ার পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে রয়েছে যুগের পর যুগ ধরে। তা ক্রীড়া প্রেমিদের সুখ-দুঃখের খোড়াক যোগায় নিঃসন্দেহে। এক্ষেত্রে প্রিন্ট মিডিয়া মূল ভরসা ফিফার কাছে। অপ্রিয় হলেও সেটা সত্য কথা। ইউরোপ মহাদেশের কোন দল সাফল্য পায়নি। যারা এক কথায় সুপার ফ্লপ এবং চরমভাবে ব্যর্থ। ল্যাটিন আমেরিকায় প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজন। এর শিরোপা জিতে নেয় স্বাগতিক দেশ উরুগুয়ে। সে কথা জানা আছে সবার। প্রথম রানার্স আপ ট্রফি কোন দল পায়? বর্তমান পরিস্থিতিতে জনপ্রিয়তায় ঘেরা আকর্ষণীয় উত্তর, আর্জেনটিনা। যাদের কোটি কোটি সমর্থক আছে সারা বিশ্বে। কি বলেন? প্রথম বিশ্বকাপে এই টিম রানার্স আপ হয়। যার ফলে বিশ্বকাপ সূচনায় সাফল্যের ইতিহাসটা ল্যাটিন আমেরিকার ঘরনায় মজবুত আকারে স্থান পায়। কিছু মনে করার নেই ইউরোপের। বাস্তবতার প্রতিফলনে উরুগুয়ে আর্জেনটিনা ইতিহাসের জ্বল জ্বল পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে আছে শতাব্দী হতে শতাব্দী ধরে। সেটা গোল বলকে করেছে সুখময়। শুধুমাত্র মানুষের হৃদয়ে স্থান পেতে। ভালোবাসার বন্ধন গাঢ় করতে। তাই ফুটবল মানে বিশ্বের ঘরে ঘরে খেলা। যেখানে লাল-সবুজ পতাকা দেশ অন্যতম। যা স্বীকার করতে হবে সকলকে। সমর্থক খেলাধুলার উন্নয়নের পথে বড় অস্ত্র। তা রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ হতে লীগসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সাপোর্ট যোগায় গোল বলকে। এর বড় প্রমান পতাকা। সেটা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে খুশির জোয়ারে, উৎসবমুখর পরিবেশে। এবার পতাকা উড়ছে না হল্যান্ড ও ইটালীর।
কারণ এই দু’টি দল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বিদায় নিয়ে কোটি কোটি খেলা পাগল ভক্তকে হতবাক করেছে। তাতে কি? আর্জেনটিনা-ব্রাজিলতো আছে। সে জন্য হৈ, চৈ পুরোদমে রয়ে গেছে। যা বিরাজ করে দর্শকের মাঝে। এমন দৃশ্য ফুটে উঠেছে বাংলাদেশে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। এটাকে বলে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। তা শতভাগ সত্য কথা। বিশ্বকাপের জোয়ার ধাপে ধাপে ছড়াচ্ছে এ দেশে। সেটা মাঠে গড়াবার অপেক্ষায় রয়েছে। এমন ধারায় আর্জেন্টাইন সমর্থক জুয়েল হোসেন ভূঁইয়া প্রস্তুত আছে। পেশায় ব্যবসায়ী সে। তিনি নারায়ণগঞ্জ বসবাস করেন। তার মতে, আর্জেনটিনা-ব্রাজিল ফাইনাল হলে বিশ্ব ফুটবল ঘরে ঘরে গরম হয়ে উঠবে। এ দুইটি দলের সমর্থক অনেক। এর ঘেরাকলে পড়ে ভাই, বোন, আত্মীয়-স্বজনরা নানা তর্কে জড়িয়ে যায়। কখনো তিক্ততা ছড়ায়। আবার ভালোবাসা স্থান পায়। অবশেষে মেসি কাপ জয় করবেন এমন প্রত্যাশা রাখেন জুয়েল ভূঁইয়া। মিলি, পিংকিরা জমজমাট আসর দেখার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন। রামগঞ্জ ভাদুর ক্রীড়া চক্রের সাধারন সম্পাদক জায়েদ হোসেন বিদ্যুৎ সার্ভিসের কথা তুলে ধরে বলেন, ম্যাচ চলাকালীন সময়ে সেটা যেন ঠিক থাকে। তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় যেন সুদৃষ্টি রাখেন লোড শেডিং কমাতে। মিরপুর নিবাসী শিক্ষিকা শাকিরা ইসলাম শাওন ব্রাজিলের সাফল্য কামনা করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেইমার সম্পূর্ণ সুস্থ। তার ছায়াতলে খেলে দল ভালো রেজাল্ট করবে। চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, রংপুর, দিনাজপুর, রাজবাড়ী, খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল, সিলেটসহ সারা দেশ গোল বল আকর্ষণের উত্তেজনায় ভাসছে। কক্সবাজার সংগীত অঙ্গন তাল মিলিয়েছে এমন ক্ষেত্রে। পৌষী, জয়নাব, মিলি, মৌটুসী, বিপ্লব বড়ুয়া, নবিউল, প্রিংকা, সুমিরা প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন বিশ্বকাপের দারুন লড়াই দেখার জন্য। যাদের প্রত্যাশা উৎসব মুখর পরিবেশে স্থান পেয়েছে। যা বরাবরের ন্যায় এবারও। সেটা বজায় রয়েছে জনপ্রিয় ক্রীড়াটির জয়োগান নিয়ে। গোল, গোল, গোল। এমন জনপ্রিয় গানের মাঝে ডুবে আছেন তারা। তা বলাবাহুল্য। সে জন্য অনায়াসে বলা যায়, বিশ্বকাপ ফুটবল মানে খুশির উৎসব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ