রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ক্রসফায়ারে মানুষ মারলে হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্টের দরকার কী

বন্দুক যুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারের হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবিতে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল সমাবেশ করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারে হত্যাকাণ্ড বন্ধ ও মাদক বিক্রেতাদের আইনানুগভাবে দমনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গতকাল সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে দল দুটি এই দাবি জানায়।
মানববন্ধনে বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, ১৫ জন সাংসদ, সাবেক সাংসদ, মেয়র, জনপ্রতিনিধিদের নাম মাদক কারবারির তালিকায় আছে। আমরা এভাবে বিনাবিচারে হত্যার পক্ষে নই। আমরা মাদকেরও পক্ষে নই। কিন্তু এভাবে বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করা মানে আইন, বিচার, গণতন্ত্রকে হত্যা করা। বিচারের আওতায় এনে তাদের বিচার করা হোক। ক্ষমতাশীন দল গণতন্ত্রের কথা বলে স্বেচ্ছাচারিতা করছে। এভাবে মানুষ মারলে হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট রাখার দরকার কী? এগুলো তুলে দিলেই হয়।
শাহবাগে পুলিশি হামলায় বোঝা যায়, তাদের অভিযান কেমন। মাদকের সঙ্গে ক্ষমতাশীন দলের কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা যুক্ত। ভারত ও মিয়ানমারের মাদক কারখানায় বাংলাদেশের বেশ কিছু লোকের বিনিয়োগ আছে। এটা গোযেন্দা রিপোর্ট। কিন্তু এরা কারা? তা বলা হলো না।
বাসদ নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, রাজ্জাকুজ্জান রতন, কমরেড শাহ আলমসহ দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
সঞ্চালক সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সরকার মাদকের মূল হোতাদের ধরলে তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই মূল হোতাদের রেখে ছোট ছোটদের মারা হচ্ছে আর এই হত্যা বিচারবহির্ভূত।
বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড রাজ্জাকুজ্জামান রতন বলেন,  মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছে ক্ষমতাশীন দল, পুলিশ সদস্য। মাদকের সাথে জড়িতদের বাইরে খুঁজে লাভ নেই, সংসদে খুঁজলেই পাওয়া যাবে। বড়রা মক্কায় যাচ্ছে,  ছোটরা মারা যাচ্ছে।
অতীতের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন,  দেশের বাইরে থেকে দেশে যারা মাদক সরবরাহ করতে আসে তারা ধরা পড়ে। কিন্তু কাদের কাছে দিতে আসে তারা ধরা পড়ে না।
সরকারের সদিচ্ছার অভাবে এদেশে মাদক ঢুকছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ৩০০০০ জনকে হত্যার পরেও থাইল্যান্ড থেকে মাদক দূর হয়নি। ২০০০ জন করে হত্যার পরেও আগের অবস্থানের আছে ফিলিপাইনের মাদক সরবরাহ। ইয়াবা, ফেনসিডিল এদেশে তৈরি হয় না। ৩৭টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে মাদক ঢোকে। এটা বন্ধ হয় না কেন? মিয়ানমার থেকে ১৫টি পয়েন্ট থেকে মাদক ঢোকে। বিজিবি হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে থাকলেও তো মাদক এদেশে ঢুকিতে পারে না।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শাসক শ্রেণির খেলা দাবি করে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম বলেন, এগুলো তামাশা। যে সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢুকছে, সেখানে তাদের প্রতিরোধ করা হচ্ছে না। মাদকের আক্রমণে দেশের প্রতিটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদকের নামে দেশে যে ভয়ের রাজনীতি চলছে তা ক্ষতির কারণ হবে। মাদক সম্রাট বদি ওমরা করতে চলে গেছেন, সরকারের অভিযান থেকে বের হয়ে গেছেন। মাদকের বড় বড় হোতা ধড়া পড়ে না। এটা শাসক শ্রেণির ক্ষমতার খেলা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ