শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিশ্বকাপ হয়ে উঠুক তাদের জন্য

মোহাম্মদ সুমন বাকী : বিশ্বকাপ ফুটবলের উম্মাদনা ছড়িয়েছে চারদিকে। এখন পাপড়ি ঘেরা চোখের দৃষ্টি সবুজ ঘাসের ময়দানে রয়েছে। এক পলক এর জন্য সরে না তা। সবাই মেতে উঠেছেন। এই উত্তেজনার উৎসব আসরকে নিয়ে। সেটা বার বার মহাখুশি পাইয়ে দেয়। আনন্দের স্রোতে ভাসিয়ে নেয়। গোল বলের আমেজের ধারাবাহিকতায়। যা কখোনো ফুরায়নি। অক্টোপাসের ন্যায় চেপে ধরেছে। তা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? এ অবস্থায় ক্রীড়াপ্রেমিদের চোখ তারকা খোঁজে। সেটা বাস্তবতার ধারায়। শুধুমাত্র নৈপূন্য দেখার প্রত্যাশায়। যার ওপর ভরসা পাওয়া যায়। সে দলকে এনে দেয় সাফল্য। এমন কথা বলাবাহুল্য। বার বার সাফল্যের ছোঁয়ায় খেলা পাগল ভক্তরা হয় উৎফুল্ল। এ পরিস্থিতিতে ফুটবল ভুবন ঘিরে থাকে উত্তেজনায়। যেখানে সবাই খুশির বানে ভেসে যায়। সেটা স্বাভাবিক দৃশ্যের প্রেক্ষাপটে। যা বজায় রয়েছে যুগের পর যুগ ধরে। এমন অবস্থায় তারকার পদার্পণ ঘটে। দিয়াগো আরমান্ডো, ম্যারাডোনা, পেলে, বেকেন বাওয়ার, ভ্যালাডোনা, বুরুচাগা, আয়ালা, সক্রেটিস, জিকো, বেবেতো, ওর্তেগা, হ্যাজি, রোনালদিনহো,  শিলাচি, রুমানিগে, প্লাতিনি, রুড গুলিত, ভ্যান বাস্তেন, রবার্তো ব্যাজিও, জিনেদান জিদানরা অন্যতম। যেখানে এশিয়া অঞ্চলের আলিদায়ি একক নৈপূণ্য প্রদর্শন করার ধারায় ছিলেন তাদের মতো আলোচিত। সোজা কথা বিশ্ব বিখ্যাত। যারা মাঠ মাতিয়েছেন বলের যাদুতে। পায়ের বুটে চুম্বকের ন্যায় লেগে থাকতো সেটা। একক নৈপূন্যের দাপটে বল নিয়ে ছুটাছুটি। কী দারুন চিত্র! গ্যালারীর আসনে বসে হাজার হাজার দর্শক উপভোগ করতো। টিভির পর্দায় চেগাখ রাখার সংখ্যা কোটি কোটি পূর্ণ হয়ে ঠেকতো। তা এক নিমিষে গোল বলের মজার আকর্ষন সবার কাছে তুলে ধরতো। চারদিকে হৈ চৈ পড়ে যেতো। তখন তারকা নিয়ে রব উঠতো। তা ফুটবলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখাতো। বিশ্বের ঘরে ঘরে পৌঁছে যেতে। নানা তর্ক-বিতর্ক শুরু হতো। কে ভালো পারফর্ম করেছে? এই প্রশ্নের বৃত্তে! কি বলেন? এমন উত্তেজনার পথে বার বার স্ব জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। এ ধারায় সকলের হৃদয়ে স্থান পেয়েছে। তাতে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের আয়ু বেড়েছে। কে সেরা, ম্যারাডোনা না পেলে? এই তর্ক-বিতর্ক এখনো চলেছে। যা সবার মাঝে। সেটা দুই জনের প্রতি ভালোবাসার টানে। ফুটবল মহানায়ক ম্যারাডোনা পেলে রব তুলে। জনপ্রিয় গানের কথা মনে পড়ে। বিশ্বকাপ জোয়ারের তালে তালে। মাঝি নাও ছাড়িয়া দে, পাল তুলিয়া দে। নদী পথে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা পত পত করে উড়ে চলেছে। এটাকে বিশ্বকাপের জোয়ার বলে। সাবিনা ইয়াসমিন এ জনপ্রিয় গান কি গাইবেন? বিশ্বকাপ জোয়ারে ঘিরে থাকা লাল-সবুজ পতাকা দেশের দর্শক ফুটবল মঞ্চে! তা সময়ই বলে দিবে। এমন আনন্দময় পরিবেশে বিশ্বকাপ আলোচনা চারদিকে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এর মাঝে একটু আশংকা দেখা দিয়েছে। যা খেলোয়াড়ের ইনজুরিকে ঘিরে। সেটা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আকর্ষণ কমিয়েছে। তা নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপে এই ঘটনা সব সময় ঘটে থাকে। যা অজানা আতংকে ভুঘিয়েছে ক্রীড়াপ্রেমিকে। সেটা সমর্থিত টিমের সাফল্য-ব্যর্থতার প্রাপ্তির বৃত্তে। দর্শকের হৃদয় কত সুন্দর। এটাই বড় উদাহরন। তারা দল সমর্থন করে। শুধুমাত্র সাফল্য পাবার জোয়ারে শরীর ভাসাতে। এ প্রত্যাশা বার বার রাখে। তা কি সম্ভব? উত্তর না। কারণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ টিম বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কোটি কোটি খেলা পাগল ভক্তের এমন চাওয়া-পাওয়ার মাঝে। ২০১৮ রাশিয়া (রুশ) বিশ্বকাপ হয়ে উঠুক তাদের জন্য। যারা গোল্ডেন বুট, বল এবং শিরোপা জয় করার বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখে। এবারের আসরে বেস্ট পারফরমার হবেন কে? এই প্রশ্নের উত্তরে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ান রোনাল্ডো, ব্রাজিলের নেইমারের হ্যান্ডসাম মুখ স্বচ্ছ পানির ন্যায় ভেসে উঠে। বিশ্ব বিখ্যাত ফুটবল টিমের সাফল্যের রূপকার হিসেবে মূল ভরসা তারা। একটু বিশ্লেষণে আলোচনা করা যাক। লিওনেল মেসি নাম যার। তিনি এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। কাটিং মাস্টার বলা যায় তাকে। প্রতিপক্ষ দলের চারদিকে ঘিরে থাকা খেলোয়াড়রাই বার বার এ প্রমাণ দিয়েছে।  তাতে মেসি আকর্ষণীয় গোলাপ হয়ে ফুটেছে। যিনি স্কিল ফুটবলার। এক কথায় লাগাতার সো করা ডজ মাস্টার। ময়দানের যুদ্ধে বার বার দেখিয়েছেন সেটা। যা শতভাগ সত্য কথা। কি বলেন আপনারা? ম্যারাডোনা, ওর্তেগার আদলে মেসির আগমন ঘটে। তিনজনই সুপার তারকা। একই কাটিং প্লেয়ার। বিশ্ব ফুটবল ভুবনে অন্যতম উপহার। পারফরম্যান্সের বিচারে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের আলোচনার রায়ে খুবই চমৎকার। শুধুমাত্র সাফল্য-ব্যর্থতার সংখ্যাটা তাদের মাঝে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। তিনজনের একক নৈপুণ্য সকলের হৃদয়ে গেঁথে আছে। তা ফিফার ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে। মেসির সমস্যা অন্যখানে। যা দেখা গেছে গোল মিসের ছড়াছড়িতে। সেটা ফুটে উঠে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। তা শোধরাতে পারলে তার হতে বুট, বল এবং বিশ্বকাপ শোভা পাবে। যা এক প্রকার নিশ্চিত। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা গোল্ডেন বল ও বিশ্বকাপ জিতে। সেটা বিরল ইতিহাস। তখন মাত্র এক গোল কম করায় গোল্ডেন এর পরিবর্তে রূপার বুট পায়। ১৯৯০ সালে সে রানার্স আপ ট্রফিসহ রূপার বল জিতে। তাই এ ক্রীড়া ভুবনের মহানায়ক ম্যারাডোনা। ওনার প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকরা কি বলেন? গোল কাজে লাগাতে পারলে মেসি এমন কীর্তি অর্জন করতে পারবেন এবার। ক্রিস্টিয়ান রোনাল্ডো। তিনি পর্তুগালের হিরো। একাই পারেন ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে। সেটা করে দেখিয়েছেন মাঠে। তা অনেকবার। তার দূর থেকে লম্বা ডজ প্রধান অস্ত্র। যা হঠাৎ কাজে লাগিয়ে বিপক্ষ টিমের শেষ ভাগের সীমানায় ঢুকে গোল আদায় করে ছাড়েন। সেটা সকলের বোধগম্য।
এমন সাফল্য প্রত্যাশা করেছেন রোনাল্ডো। ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। উদ্ভাসিত পারফর্ম দেখাবার ক্ষেত্রে সবুজ ঘাসের মাঠে জুড়ি নাই যার। হেড মাস্টার তিনি। পাশ দিতে এবং গোল করার কৌশলে মাথা দ্রুত কাজে লাগান। তা দেখা যায় সুযোগ বুঝে। যা খেলার মাঠে ভেসে উঠে। তার পায়ের সংযোগে বল টানার দৃশ্যটা অসাধারণ। সেটাও আবার দ্রুতগতিতে। তা যে কারোর চোখের পাতায় আদর্শ খেলোয়াড় হিসেবে সুপার ডুপার মডেল। যিনি ডজ দেবার ক্ষেত্রে সময় নেন একটু! পিছিয়ে রয়েছেন এখানে। এখন সুস্থ নেইমার । ইনজুরি আপাতত নেই তার।পর্দার অন্তরালে আসল সমস্যা করুন পরিস্থিতিতে ভেসে উঠে যেখানে। সেই ইনজুরির ভয় তাকে ঘিরে রাখে সেখানে। মেসি, রোনাল্ডোর মতো নেইমারও একই সাফল্য অর্জনের মসৃন পথের পথিক। এখানে ডি মারিয়া, হিগুইয়িন, এ্যাগুয়ারা, মুলারের ন্যায় অন্য তারকারা কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারবে কি? প্রশ্ন জাগে! এর উত্তর সময়ই জানিয়ে দিবে। পরিশেষে অনায়াসে সে বলা যায়, বিশ্বকাপ হয়ে উঠুক তাদের জন্য। যারা সুপার পারফর্ম করার ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় মডেল রূপে ফুটবল রাজ্যে বড় উপহার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ