সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঝামেলা এড়াতে ফেরা শুরু করেছেন অনেকেই

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদের ছুটির সঙ্গে শুক্র ও শনিবার যোগ হওয়ায় ঈদের আনন্দ এবার দীর্ঘ হয়েছে নাগরিক জীবনে। তাই শুক্রবারও জাদুর শহর ঢাকা ছাড়ছে হাজারো মানুষ। সকাল থেকে বাস, ট্রেন আর লঞ্চ টার্মিনালে এসব মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

ঢাকা ছাড়ার পাশাপাশি শুক্রবার থেকেই নগরীতে আসতে শুরু করেছেন পরিবারের সঙ্গে গ্রামে ঈদ করতে যাওয়া অনেকে। পরিবার পরিজন নিয়ে যারা একটু আগেভাগে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা নগরীতে ভিড়ছেন কোনো ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই। শুক্রবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে এমন চিত্র।

দুপুর ১২টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ৬ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়ায় সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। মুহূর্তেই সেটি যাত্রীতে ঠাসাঠাসি অবস্থা। যদিও এর আগে এসব যাত্রীকে প্লাটফর্মে অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঈদের তিন দিন আগে থেকে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় শুরু হলেও শুক্রবারেও তার কিছুটা দেখা গেলো কমলাপুরে। দু’একটি ট্রেন সময়মতো প্লটফর্ম ছাড়তে পারলেও কিছু-কিছু ট্রেন নির্ধারিত সময়ের বহুপরে ফিরছে কমলাপুরে। আর যেগুলো আসতে দেরি করছে যাবার বেলায়ও সেগুলো পিছিয়ে পড়ছে।

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৯টায় কমলাপুর স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও দুপুর ১২টা নাগাদ সেটি কমলাপুরে এসে পৌঁছেনি। তবে সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, চাপাইনবাবগঞ্জগামী রাজশাহী এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামের চট্টলা এক্সপ্রেস, নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ দুপুরের দিকের ট্রেনগুলো মোটামুটি টাইম মেনেই স্টেশন ছাড়বে এমনটা জানিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

 স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, ঈদের বিশেষ ট্রেন সার্ভিস শেষ না হতেই ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে যাত্রীরা। এতে করে শতভাগ নিয়মে ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে শিডিউল বিপর্যয় নেই। শনিবার থেকে ঢাকামূখী যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।

সিলেটগামী চলিন্তকা ট্রেনের যাত্রী বশির উদ্দিন জানান, ঝামেলা এড়াতে ইচ্ছা করেই ঈদের পরে গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ যাচ্ছি। টেলিভিশনে এ কদিন যে কমলাপুর দেখেছি এখন অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আশা করছি পরিবার নিয়ে সহজেই বাড়িতে যেতে পারবো।

 রেল কর্তপক্ষ বলছে, ঈদের পরে মূলত ঢাকার আশপাশের জেলার যাত্রীদের চাপ বেশি। যারা রাজধানীতে মজুরিভিত্তিক কাজকর্ম করে থাকেন তাদের বেশিরভাগই ঈদের পরে ঢাকা ছাড়েন। এ জন্য আন্তঃনগর ট্রেন, কমিউটার ট্রেনগুলোতে চাপ রয়েছে।

তিতাস কমিউটার ট্রেনের যাত্রী শাফায়েত হোসেন বলেন, ঈদের সময় অনেক কাজ থাকে। তাই আগে ভাগে বাড়ি গেলে চলে না। বাড়তি টাকা ইনকামের জন্য ঈদের সময় অতিরিক্ত ডিউটি করতে হয়। এখন বাড়ি গেলে সপ্তাহখানেক থাকা যাবে।

ঈদুল আযহার তৃতীয় দিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে, রাজধানীবাসীর অনেকেই এখনো ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। চাঁদপুরগামী যাত্রী জিঞ্জিরা পিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আমি জিঞ্জিরাতেই ঈদ পালন করেছি। বাবা-মা বেঁচে নেই। এখন গ্রামে যাচ্ছি আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে।

এদিকে কুরবানি ঈদের ছুটি শেষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এবার ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীবাসী। রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকায় ফিরে আসা নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছুটির দিনে যানজটহীন সড়কে তাদের ঢাকায় ফেরা ছিল ঝক্কিহীন।

সরকারি অফিস-আদালতে দাপ্তরিক কার্যক্রম আগামী রোববার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শনিবার থেকেই খোলা শুরু করবে। পাশাপাশি ফিরতি পথের যানজট এড়াতেও অনেকে আগেভাগে রওনা হয়েছেন ঢাকার উদ্দেশ্যে।

সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ফিরে আসা যাত্রী মো. মনির হোসেন বলেন, শনিবার থেকে অফিস খুলে যাবে।  প্রথমে ভেবেছিলাম, শুক্রবার রাতে ফিরব। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পাল্টাই। আজ সকালে রাস্দা ফাঁকা পেয়ে গেলাম। পথে আসতে কোনো সমস্যা হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুটি থেকে আসা রিমি করিম বলেন, জ্যাম ট্যাম মিলিয়ে বাড়ি যেতে এমনিতে সময় লাগে সাড়ে ৬ ঘণ্টা। ঈদের সময় লেগেছে প্রায় ১০ ঘন্টা। আজকে চলে এলাম একদম ৫ ঘণ্টায়। পথে কোথাও কোনো অসুবিধা হয়নি।

এখনও অনেকে ঢাকা ছাড়ছেন জানিয়ে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আজকেও বেশ অনেক যাত্রী বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। কাউন্টার থেকে বাস নির্ধারিত সময় পর পর ছেড়ে যাচ্ছে। সড়ক ফাঁকা থাকায় নির্বিঘ্নেই বাড়ি যেতে পারছেন তারা।

রংপুরের ইমতিয়াজ ইমতু সাত সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছে ফেইসবুকে লিখেছেন, রাত ১১টায় রওনা হয়ে সকাল ৮টায় গাবতলী পৌঁছে গেছি। নয় ঘণ্টায় ৩৮০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে এলাম।

গাবতলীর মাজার রোডের শ্যামলী পরিবহনের কর্মকর্তা দীপক কর্মকার বলেন, শুক্রবার সকাল থেকেই যাত্রীরা ফিরতে শুরু করেছেন। চালকরা বলছেন, সড়কে কোথাও জ্যাম নেই।তবে আশা করছি, শনিবার থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বাড়বে। শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা গাড়িগুলোকে হয়ত জ্যামে পড়তে হতে পারে।

শুক্রবার দুপুর হতে বগুড়া, টাঙ্গাইল এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রীরা আসতে শুরু করেছেন বলে জানান মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ