বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০
Online Edition

পদক্ষেপ না নেয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প,সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল যুবায়ের

২৩ অক্টোবর, আল জাজিরা, ইউএসএটুডে, বিবিসি : দেশের অভ্যন্তরে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টি আর বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির ক্রমেই সমালোচনা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রশ্নে। ইউরোপীয় দেশগুলোও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে। তা সত্তে¦ও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পূর্ববর্তী অবস্থানে অনড়। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘বোকামি আর নির্বুদ্ধিতা’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তবে সৌদি আরবের সুরে সুর মিলিয়ে দাবি করেছেন, পরিকল্পনাটি ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজের সর্ম্পৃক্ততার প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হলে এড়িয়ে গেছেন তিনি।

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতম কৌশলগত মিত্র সৌদি আরবকে নিয়ে বিপাকেই আছেন ট্রাম্প। সৌদি আরবের ওপর নির্ভর করেই মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনবিরোধী ‘শতাব্দীর চুক্তি’ বাস্তবায়নের আশাও করছেন তিনি। তবে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সেই ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।

প্রধান মিত্রদেশগুলোর পাশাপাশি দেশের আইনপ্রণেতারাও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাই খাশোগি ইস্যুতে প্রথম থেকেই সৌদি আরবকে সমর্থন করে গেলেও চাপের মুখে এখন প্রকাশ্যে আর সমর্থন জানাতে পারছেন না ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি টেলিফোনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে আসলে কী হয়েছিল আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তারা বিস্তারিত জানা যাবে। সৌদি যুবরাজ খাশোগি হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘‘তিনি বলেছেন, ‘তিনি বা বাদশাহ এর সঙ্গে জড়িত নন’।’’ তবে যুবরাজের এই উত্তর বিশ্বাস করেন কিনা তার জবাব দেননি ট্রাম্প।

খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি নেতৃত্বের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কী হবে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি খুবই দুঃখ পাবো। তখন আমরা বিষয়টি দেখবো।’

শুক্রবার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরবরাহকৃত সৌদি ব্যাখ্যাকে ‘গ্রহণযোগ্য’ দাবি করলেও শনিবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে শামিল হয়ে ট্রাম্প বলেন, ব্যাখ্যাই যথেষ্ট নয়। সত্য উন্মোচনের আগ পর্যন্ত তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে শেষ পর্যন্তও সৌদি আরবকে রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শনিবার সত্য উন্মোচনের দাবি জানানোর পাশাপাশি এটাও দাবি করেছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতা নাও থাকতে পারে। এছাড়া রিয়াদের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনাও নাকচ করেন তিনি। শনিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ নিষেধাজ্ঞা একটা পথ বটে, তবে অস্ত্র চুক্তি স্থগিত করলে তা তাদের চেয়ে আমাদের জন্য বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে।’  

গত সোমবার ইউএসএ টুডে’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের কারণে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে তিনি বিরোধিতা করবেন। তার পরিবর্তে আরও ‘অনেক কার্যকর শাস্তি’ আছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

তুরস্কে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সৌদি আরব। গতকাল মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার জার্কাতায় একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সত্য উন্মোচন ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। গত শুক্রবার মধ্যরাতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরব সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে। তবে তারা দাবি করে, তারা খাশোগিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন। তাকে হত্যার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না।আর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে দেশটি। তবে সৌদি আরবের এমন দাবি মানছে না তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এবার হত্যাকাণ্ডটির ব্যাপক তদন্তের কথা জানালেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আল জুবায়ের বলেন, সৌদি আরব তুরস্কে একটি তদন্ত দল পাঠিয়েছে। সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় দায়ী সবাইকে আটক করা হবে। ‘পুঙ্খানুপুঙ্খু ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা সত্য উন্মোচন করতে চাই, দোষীদের বিচারের আওতায় নিতে চাই।’ ইন্দোনেশীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুবাইর। তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় নজর রাখছি। এর প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন দিক এমনভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এমন ঘটাতে না পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত জামাল খাশোগি সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধী ছিলেন তিনি। এক সময় সংবাদপত্র আল ওয়াতানের সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন খাশোগি। কাজ করেছেন একটি সৌদি টেলিভিশন চ্যানেলেও। ওয়াশিংটন পোস্ট ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানগুলোতে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন খাশোগি। সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ