বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনের পরও চ্যালেঞ্জ করা যাবে -হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকবর হোসেন পাঠানের (চিত্রনায়ক ফারুক) প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।
গতকাল বুধবার শুনানিতে হাইকোর্ট আইনজীবীদের জানান, নির্বাচনের পরও ঋণখেলাপিদের মনোনয়নপত্র চ্যালেঞ্জ করা যাবে। এর ফলে নির্বাচনের পরও চিত্রনায়ক ফারুকের মনোনয়নের বিরুদ্ধে আবেদনের সুযোগ থাকবে।
রিট আবেদনটি করেছিলেন এই আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আন্দালিভ রহমান পার্থ। পরে গতকাল বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন বেঞ্চ এ আদেশ জানান।
গতকাল আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার আহসানুল করিম। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।
পরে পার্থের আইনজীবী ব্যারিস্টার আহসানুল করিম বলেন, আদালত শুনানিতে আমাদের বলেছেন, ঋণখেলাপির কারণে নির্বাচনের পরও প্রার্থীর মনোনয়নপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়েরের সুযোগ রয়েছে। তাই আমরা আমাদের রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এ আদেশের ফলে নির্বাচনের পরও পুনরায় ঢাকা-১৭ আসনে নৌকার প্রার্থী চিত্রনায়ক ফারুকের মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে রিট দায়েরের পথ খোলা থাকল।
এর আগে পার্থর আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে ফারুক হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছিলেন। সে রিটে সোনালী ব্যাংক তার কাছে টাকা পাবে বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু ওই রিট আবেদনটির ওপর কোনো আদেশ হয়নি। কাজেই ফারুক যে ঋণখেলাপি, এটা তো আত্মস্বীকৃত।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন আকবর হোসেন পাঠান ফারুক।
 এ বিষয়ে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ঋণখেলাপি। তার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। এটা কীভাবে সম্ভব? যেখানে সর্বোচ্চ আদালতের প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো ঋণখেলাপি হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকায় নাম থাকলে তার মনোনয়ন বাতিল হবে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তার প্রতিদ্বন্দ্বী এ প্রার্থীর কোনো হলফনামা নেই। এটা গায়েব করল কে?
রিট আবেদন থেকে জানা যায়, আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। রাজধানীর মতিঝিলের স্থানীয় শাখা থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নামে পাঁচ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। তাঁর একক ঋণ হিসেবে সোনালী ব্যাংকের ৩৬ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল হয়নি।
হলফনামার ঘরে একক ঋণের বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। এ-সংক্রান্ত কলামে তিনি ‘প্রযোজ্য নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু পাশের কলাম বা ঘরে গৃহীত ঋণ পুনঃতফসিল না হওয়ার একটি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘২৭-০৬-২০১৩ হইতে ৩১-০৩-২০১৪ বহুবার আবেদন করেও ব্যাংক কর্তৃক আবেদন গৃহীত হয়নি কেন জানতে পারলাম না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ