বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০
Online Edition

কালিগঞ্জে ডাব ও নারিকেল উৎপাদনে ধস ॥ দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) : উপজেলার বাগবাটি গ্রামের মুনির কুমার মণ্ডলের নারিকেল বাগানের একাংশ

রফিকুল ইসলাম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : এলিওফাইড নামক এক প্রকার সাদা মাকড়ের আক্রমণে কালিগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে নারিকেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত ছয় বছরে এ অঞ্চলে নাকিলের ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অপরদিকে নারকেল আড়ৎদারী ব্যবসার ধস নেমেছে।

সূত্রে জানা যায়, গত ছয় বছরে ধরে কালিগঞ্জ ২৭৭টি গ্রামাঞ্চলে ডাব ও নারিকেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়ে থাকে। প্রথমে শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপনের কারণে এ অঞ্চলের নারিকেল গাছ গুলোর ফুল ও ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে চাষীদের ধারণা। পরবর্তীতে এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। রোগের কারণে নারিকেল গাছ গুলোতে প্রচুর ফুল ধরার পরেও ফল পরিপক্কতা হচ্ছে না। সূত্রে জানা যায়, এক ধরণের ছোট সাদা পোকার  আক্রমণে কচি ডাবের বোটার কাছ থেকে খোসা বা খোলের ওপর বাদামি দাগ পড়ছে। ফলে কচি নাকিলের চার পাশে বাদামি দাগে ভরে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে দাগ থেকে আঠালো পদার্থ নির্গত হওয়ায় অধিকাংশ নারিকেল গাছের ফুল ফলে পরিণত হওয়ার আগেই ঝরে যায়। উপজেলার হাটবাজারে নারিকেলের আড়ৎদারী রয়েছে। এসব আগড়দারী থেকে হাজার হাজার নারিকেল প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবারাহ করা হয়। কিন্তু এ অঞ্চলের নারিকেল গাছ গুলোতে নারিকেলের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় অনেক নারিকেল ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

জানা যায়, বর্তমানে বড় সাইজের এক জোড়া নাকিকেল ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে বিক্রি হতো ১২-১৫ টাকা। তবে, একটি বড় ডাব বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। যা আগে বিক্রি হতো ৫-৬ টাকায়। তা ছাড়া নারিকেল থেকে তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন হয়ে থাকে এবং নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে ফোম, দড়ি, কাঁতা ও ব্যাগ তৈরি হয়। নারিকেলের আঁচা দিয়ে বর্তমানে উন্নতমানের কয়লা তৈরি ও মশার কয়েল তৈরি হচ্ছে। কিন্তু গত আট-দশ বছর ধরে এ এলাকায় হাজার হাজার নারিকেল গাছে এলিওফাইড নামক এক প্রকার সাদা মাকড়ের কারণে নারিকেলের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। খুলনার বিসিক নগরীসহ বিভিন্ন জেলায় প্রচুর ফোম ও নারিকেল তেলের কারখানা রয়েছে। নারিকেল উৎপাদন হ্রাস ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বলে একটি সূত্রে জানা যায়।

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষিবিদ জানান, ইতোপূর্বে আমাদের দেশে নারিকেল গাছে এ ধরণের মাকড়ের আক্রমণ রোগ কখনো দেখা যায়নি। সংক্রমক রোগ কখনো দেখা যায়নি। তবে এ রোগ সর্ব প্রথম ১৯৯৪ সালে ভারতের কেরালা রাজ্যে এ ধরনের গাছের ক্ষতি এলিওফাইড নামে সুক্ষ মাকড়সাকে নারকেলের সংক্রামনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গাছে এ রোগ হওয়ার পর তা দ্রুত গাছে গাছে বিস্তার করে। ক্ষতিকারক এ রোগ নারকেল ও ডাবের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে গাছকে দুর্বল করে ফেলে। ফলে দুর্বল গাছে ফলন কমে আসে। তাছাড়া ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র শ্রীলংকায় এ রোগের আবির্ভাব ঘটে। ওই সময় শ্রীলংকার কৃষিবিদরা গাছের এ রোগ সম্পর্কে ব্যাপক পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে নিশ্চিত হয়, যে নারিকেলে সংক্রমণের জন্য সাদা পোকাই দায়ী। এ কারণেই ডাব ও নারকেলের ফলন কমে যাচ্ছে। 

তারা আরও জানান, এ রোগ থেকে গাছ বাঁচাতে হলে, নারিকেল গাছের মাথা ঝুড়ে পরিস্কার করে ২০ মিলি নিম তেল ও রসুনের দ্রবণ পরিস্কার পানিতে মিশিয়ে প্রতিটি গাছের মাথায় ফুল ও ফলে ¯েপ্র করলে সংক্রমক থেকে ফুল ওফল বাঁচানো যাবে। এতে করে ফুল ও ফলের কোন ক্ষতি হবে না বরং ফলন ভাল হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ