শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

আ.লীগ ৫ জানুয়ারি যা করেছে ৩০ ডিসেম্বর সেটার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে

গতকাল শনিবার মতিঝিল দলীয় কার্যালয়ে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় বক্তব্য রাখেন ফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নাই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যা করেছে, ৩০ ডিসেম্বর সেটার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে তারা। এটা কোনা নির্বাচন হতে পারে না। তিনি বলেন, যেভাবে সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করা হয়েছে এভাবে মানুষের সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করা যায় না। তড়িঘড়ি করে রাতের অন্ধকারে ভোট দিয়ে একটা ফলাফল ঘোষণা করে দেয়া, এটা দেশের স্বার্থে করা হয়নি। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে যারা ভোটার তাদের ভোট দেবার সুযোগ দিতে হবে। গতকাল শনিবার গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই সব কথা বলেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের প্রার্থিতা দেয়ার বিষয়টি ভুল ছিলো মন্তব্য করে ড. কামাল হোসেন বলেন, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন তারা। তিনি বলেন, আমার কথা আমি বলি, যেহেতু আমি অলরেডি পাবলিকলি বলেছি। আমি সঙ্গে সঙ্গে বলেছি যে, ভাই এটা তো আমার জানাই ছিলো না। তখন ওরা বললো না যে জামায়াতের ২৫ জন না কত ..,। আমি যখন এখানে সম্মতি দিয়েছি সেটা আমাকে জানানো হয় নাই। আমার মতে সেটাও একটা ভুল করা হয়েছে।
এখন কী আপনারা বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন জামায়াতকে ছেড়ে দিতে- এরকম প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেল, আমি তো মনে করি সেটা বলা যেতে পারে। যদি বিএনপি জামায়াতকে না ছাড়ে তাহলে কী করবেন প্রশ্ন করা হলে ড. কামাল হোসেন বলেন, কেন হাইপোথেটিক্যাল প্রশ্ন। যদি বলেন এর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া যায় না। যখন হবে তখন বলব।
ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কিংবা গণফোরাম কোন পথে হাটবে? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য একদম পরিস্কার যে, জামায়াতকে নিয়ে আমরা রাজনীতি কখনো করি নাই। রাজনীতি কোনোদিন করার কথা চিন্তাও করি নাই। যেটা বলা হয়েছে যে করেছি। সেটা আমি সঙ্গে সঙ্গে বলেছি যে, এটা তো আমাদেরকে বলা হয়নি যে, তারা (জামায়াত) থাকবে এটার মধ্যে। ভবিষ্যতে এই ব্যাপারটি একদম পরিস্কার। ওকে। জামায়াতকে নিয়ে আমরা কাজ করবো না।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু আরো পরিস্কার করে বলেন, আমরা কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট করেছি বিএনপির সাথে, ২০ দলের সাথে করি নাই। তারপরেও জামায়াতের নাম যখন চলে আসছে যে, ২২ জন ওরা ধানের শীষের প্রতিদ্বন্ধিতা করেছে। তখন বিএনপির মহাসচিবকে জানিয়েছি। তিনি (বিএনপি মহাসচিব) তার দলের মিটিংয়ে তা উত্থাপন করেছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ দিয়েছে যে, না তারা জামায়াত হিসেবে কাউকে আমরা দেইনি, আমরা সব ধানের শীষ হিসেবে দিয়েছি। আমরা বলেছি যে, অবিলম্বে এই ব্যাপারটা সুরাহা করার জন্য। অবশ্যই আমরা জামায়াতের ব্যাপারটার সুরাহা চাই। আমরা জামায়াতকে নিয়ে আগেই রাজনীতি করিনি, এখনো করি না, ভবিষ্যতেও করব না।
একাদশ নির্বাচনে গণফোরামের দুইজন নির্বাচিত হয়েছেন তাদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে আলাপ করে পরে সিদ্ধান্ত নেবো।
ভোটের বিষয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ৩০ ডিসেম্বর যে ধরনের নির্বাচন হয়েছে। হয়ে গেছে সেটা। তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি করেছে, ৩০ ডিসেম্বর সেটার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে তারা। ভালো। ধারাবাহিকতা রক্ষা করার সাথে সাথে অর্থপূর্ণ নির্বাচন যেটাতে দাবি করতে পারেন যে আমরা জনগণের আস্থা পেয়েছি সেটা করেন। তিনি বলেন, যেভাবে সংখ্যা গরিষ্টতা অর্জন করা হয়েছে এভাবে মানুষের সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করা যায় না। তড়িঘড়ি করে একটা রাতের অন্ধকারে ভোট দিয়ে একটা ফলাফল ঘোষণা করে দেয়া এটা যে কেউ বলছে, করাচ্ছে তা দেশের স্বার্থে করা হচেছ না, বলা হচ্ছে না। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে যারা ভোটার তাদের ভোট দেবার সুযোগ দিতে হবে। তারা গিয়ে স্বেচ্ছায় ভোট দিয়ে আসবে। সরকারকে বলব যে, একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। বির্তক না বাড়িয়ে অবাধ নির্বাচনের ব্যাপারে গণতন্ত্র, সংবিধান ও অবাধ নির্বাচনের ব্যাপারে ঐক্যমত আছে যেখানে সরকারকে এটার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সকলকে সুযোগ দেয়া উচিত। 
মতিঝিলে পুরাতন ইডেন হোটেলের প্রাঙ্গনে গণফোরামের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির এই বৈঠক হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, সভায় নেত্বৃৃন্দ দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ভবিষ্যত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নাই। তবে তাড়াতাড়ি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত যেসব ভুল-ত্রুটি সংগঠিত হয়েছে তা সংশোধন করে ভবিষ্যতের জন্য সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ ঢাকায় গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে জোরদার করতে অবিলম্বে জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফল শুরু করাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৈঠকে সভাপতি কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মন্টু ছাড়াও গণফোরামের নির্বাহী কমিটির সদস্য সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজা কিবরিয়া, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, এসএম আলতাফ হোসেন, আওম শফিকউল্লাহ, মোশতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পথিকসহ কেন্দ্রীয় কমিটির ৭০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ