শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

খুলনায় বেসরকারি পলিটেকনিকে চতুর্থ পর্বে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বাড়ছে

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ বেসরকারি পলিটেকনিকে চতুর্থ পর্বে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। প্রথম দুই বছর লেখাপড়া ঠিকঠাক হলেও দুই বছর পর শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ঝরে যাচ্ছে। প্রথম তিন পর্ব টিকে গেলেও চতুর্থ পর্বে বোর্ডে গিয়ে অনেকেই টিকতে পারছে না। তবে, এতে হতাশার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বেসরকারি পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, খুলনার ১৭টি বেসরকারি পলিটেকনিকে চতুর্থ পর্বে ১ হাজার ৪০১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। যাতে পাস ৩২৪ জন, এক থেকে তিন বিষয় ফেল ৬২২ জন ও বাকি ৪১১ জন এক বছরের জন্য আউট হয়েছে। ঝরে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী।
সূত্র মতে, বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্সে আটটি পর্ব রয়েছে। যার প্রথম তিন পর্ব কলেজ কর্তৃপক্ষ আর বাকি চার পর্ব বোর্ডের আওতায়। অষ্টম পর্ব ব্যবহারিক শিক্ষা। প্রথম তিন পর্ব কলেজের আওতায় হওয়ায় এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে কিছু কুচক্রি মহল।
এদিকে, বেসরকারি পলিটেকনিকগুলোর মধ্যে চতুর্থ পর্বের ফলাফলের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে খুলনার ম্যানগ্রোভ ইন্সটিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, যার পাসের হার ৩৭ শতাংশ। সিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ২৩ শতাংশ এবং খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয় ১৪ শতাংশ। ম্যানগ্রোভ ইন্সটিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম মোমেন বলেন, চতুর্থ পর্বে শিক্ষার্থীদের ফেল করার হার কিছুটা বেশি মনে হলেও সেটি নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ ফেল করা শিক্ষার্থী পুনরায় তিন মাসের মধ্যে রেফার্ড পরীক্ষা দিয়ে নিয়মিত হতে পারে। এতে তার ইয়ার লস হয় না। তবে, কোনো শিক্ষার্থী যাতে আউট না হয় সে বিষয়ে তার প্রতিষ্ঠানের কঠোর নজরদারি রয়েছে।
অপরদিকে, খুলনা সরকারি পলিটেকনিকেরও বেহাল দশা। এখানে ৯৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৭৩ জন, ৪৩০ জন এক থেকে তিন বিষয় অকৃতকার্য ও ১৪০ জন তিনের অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে এক বছরে জন্য আউট হয়েছে। খুলনা সরকারি পলিটেকনিকে চতুর্থ পর্বে পাসের হার ৩৯ শতাংশ।
খুলনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার অনিমেশ পাল বলেন, শিক্ষার্থীরা হয়তো ভালোভাবে ক্লাস করেনি। আর পরীক্ষার খাতা বোর্ডের মাধ্যমে অন্যান্য কলেজের শিক্ষকরা নিরীক্ষা করেন। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা প্রশ্নের সঠিক উত্তর লেখার সময় ভুলে অন্য উত্তর লিখে আসে। যে কারণে অকৃতকার্য ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ