শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

দুর্নীতি নির্মূল নিয়ে কথা

এইচ এম আব্দুর রহিম : নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সরকার দুর্নীতি নির্মূল করতে পারবে কি? দুর্নীতি যে পর্যায়ে পৌঁছানো হয়েছে, তাতে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা দুরূহ বটে। বিশেষ করে সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ না হলে দুর্নীতি বন্ধ করা অসম্ভব হবে। জাতির উপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসা দুর্নীতিকে যদি এ মুহূর্তে আঘাত করা না যায়, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠবে খুবই ভয়াবহ। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির যে ডালপালা বিস্তার করছিল এবং ঋণ খেলাপির দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর্থিক খাতে অব্যবস্থাপনা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে পর্যাপ্ত দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ না হওয়ার ফলে অর্থনৈতিক গতিশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। ঋণখেলাপি এখন দেশের আরেকটি আপদ। কীভাবে ব্যাংকের টাকা পকেটে পুড়ে খেলাপি হওয়া যায় তার যেন প্রতিযোগিতা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকখাত থেকে বৃহৎ অঙ্কের ঋণ নেয়া শতাধিক গ্রহীতার হদিস মিলছে না। নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে ব্যাংকের টাকা আত্মসাত করে তারা গা ঢাকা দিয়েছে। অনেকে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। এসব ঋণ গ্রহীতা নিয়ে বিপাকে পড়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। একদিকে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, অন্য দিকে এসব ঋণগ্রহীতা ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এমন প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের ব্যাংক পরিচালক। তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অসৎ কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশ থাকতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার আর অর্থে জানা গেছে, সম্প্রতি সময়ে ঋণ জালিয়াতির অভিনব পদ্ধতি হচ্ছে একটি কোম্পানির সব ধরনের কাগজপত্র সঠিকভাবে উপস্থাপন করে ঋণ নেয়া। এ ঋণ নেয়ার সময় ওই কোম্পানির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনুমোদনের অতিরিক্ত অর্থ তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পুরোপুরি ভুতুড়ে একাউন্ট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। ঋণ জালিয়াতির আরেকটি পদ্ধতি এখন এসএমই। এ খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ জোর দেওয়ার কারণে কর্মকর্তারা ভুয়া মটগেজ ঋণ তৈরি করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই জনতা ব্যাংক কয়েক হাজার কোটি টাকা এসএমই ঋণ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ে । একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ৪১৮ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক আটকও করে। কারণ এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে কর্পোরেট ঋণ গ্রহণ করেন, তাতে থাকে না কোন নিরাপত্তা গ্যারান্টি। যার কারণে ভুয়া মানুষের নামে ব্যাংক ঋণ বাড়ছে। একই কারণে বাড়ছে খেলাপির পরিমাণও। আদালতে মামলা গড়ালেও তা স্থগিত করে প্রভাবশালীরা এ সুবিধা নিয়ে থাকেন। এতে খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে আবার ৪৫ হাজার কোটি অবলোপন করা হয়েছে অর্থাৎ পাঁচ বছরেও আদায় না হওয়ায় এসব মন্দ ঋণ ব্যাংকের মূল খাতা  থেকে বাদ দিয়ে আলাদা খাতায় নেয়া হয়েছে। এটা অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ। আইনি নানা ফাঁক ফোকরের মাধ্যমে দিন দিন ঋণখেলাপিরা পার পেয়ে যাওয়ায় খেলাপি ঋণ ও ঋণ আত্মসাতের ঘটনা বাড়ছে। টিআইবির খবরে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ১৩তম। আগের বছরে ছিল ১৭তম। অবশ্য ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে আমাদের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। বাংলাদেশে দুর্নীতি চার ধাপ বেড়েছে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশরের (দুদকের) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতির মহাসমুদ্রে কাকে ধরব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছেন। এটা নির্বাচনী অঙ্গীকার বটে। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় দেশে দুর্নীতি আছে। শুরু করা যাক দেশের দক্ষিণপ্রান্ত, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে ১৭ জানুয়ারি একটি দৈনিকের সংবাদ শিরোনাম পণ্যভর্তি ১২ হাজার কন্টেইনার গায়েব। এ সম্পর্কে লেখা হয়েছে ‘চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যতম বন্দরে জব্দ করা প্রায় ১২ হাজার পণ্যভর্তি কন্টেইনার গায়েব হয়ে গেছে। কম্পিউটারে সংরক্ষিত পণ্যের বিল অব গোপন পাসওর্য়াড চুরি করে কন্টেইনারগুলো গায়েব করা হয়। একই দিনের অন্য একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ শিরোনাম : ‘অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইডিতে পণ্য খালাস/চট্টগ্রাম কাস্টমসে দুর্ধর্ষ জালিয়াতি’। বেপরোয়া সাহসে অবৈধ পণ্য খালাসের কারণ, আমদানি করা চালানটির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ছিল। এমন মনে করার কারণ নেই যে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। চট্টগ্রামসহ বন্দরগুলোতে অবৈধ বেআইনি কর্মকা- বেআইনে চলছে। দুর্নীতি প্রমাণে আরও একটি সংবাদ শিরোনাম উদ্ধৃতি করছি। ‘ব্যাংকখাতে জালিয়াতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ’। ব্যাংকখাতে ও আলোচ্য ভূতের উপদ্রব্য কম নয়, তার প্রমাণ মেলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনাবলীতে। কিছু দিন আগের বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনাবলী উল্লেখযোগ্য। সমাজরাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের শাখা-প্রশাখায় অনুসন্ধান চালান দরকার। কারণ সেসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি উদ্ঘাটিত হবে অনায়াসে। কারণ মনে রাখতে হবে দুর্নীতি আমাদের সমাজের বড় শত্রু। প্রতি বছর টাকা পাচার দুর্নীতির খবর ছাপা হয় দুটো আন্তর্জাতিক সংস্থার কল্যাণে। এবারও তাই হয়েছে। এজন্য দরকার সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন। মুশকিল হচ্ছে সমাজ ধীরে ধীরে দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের প্রশ্রয় দিয়ে ফেলছে। সমাজ তাদের গ্রহণ করে নিচ্ছে। আজ সমাজে বিদ্যান লোকদের কোনো সমাদর নেই। আগের দিনে সমাজ শ্রদ্ধা করত বিদ্যান লোকদের। আজ সমাদর করে টাকাওয়ালা লোকদের, বিত্তশালীদের তাদের টাকার উৎস যাই হোক না কেন। এমন একটা পরিস্থিতিতে কি করণীয়? পরিবারের মা-বাবা সৎ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। শিক্ষকরা সৎ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ইসলাম নামক ধর্মটি যারা আঁকড়ে ধরেছেন তাদের মধ্যে আল্লাহর ভয় যদি সৃষ্টি হয় তাহলে ওই লোকটি সৎ হয়। আজ আমাদের সমাজ রাষ্ট্রকে একটি ম্যাসেজ দিতে হবে। দুর্নীতি করে অর্জিত টাকা ভোগ করা যাবে না। বেপরোয়া যারা করেছে, তাদের সম্পদের ওপর ৮০-৯০ শতাংশ কর বসিয়ে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে নেয়া যেতে পারে। দেশে অবৈধভাবে অর্জিত টাকা রাখার ব্যবস্থা নেই। এ সংক্রান্ত আইন রয়েছে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন নেই। ১০ লাখ টাকার বেশি যাদের টাকা ব্যাংকে আছে তাদের আয়ের উৎস অনুসন্ধ্যান করা জরুরি। তবে যাদের টাকা বেশি তারা টাকা বিদেশে পাচার করছে। অনেক দ্বীপরাষ্ট্র আছে, অনেক বড় বড় দেশ আছে, যেখানে দুর্নীতিবাজরা টাকা নিয়ে গেলে কোনো প্রশ্ন করা হয় না। অথচ আমরা তা করিÑ কে কোন পথে টাকা অর্জন করেছে ব্যাংক জিজ্ঞাসা করে। পৃথিবীর বহুদেশ আছে এ সম্পর্কে ব্যাংকে কোন ডিজ্ঞাসা করে না এবং সেসব দেশে বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজরা গিয়ে টাকা রাখছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) তাদের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা পৃথিবী থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন (শত কোটি) ডলার উন্নত দেশে পাচার হচ্ছে। যুগান্তরের এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালে শুধু বাংলাদেশ থেকে ৫৯০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এর দাম বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। দেখা যাচ্ছে ২০১৫ সালে বিদেশে টাকা পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে ১৯তম। বিগত দশ বছরে বিদেশে পাচার হয়েছে ৫ লাখ ২২ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। এটা অকল্পনীয় একটা তথ্য। জিএফ আই বলছে, তিন চারটি পথে বিদেশে টাকা পাচার হয়। একটা হচ্ছে ‘ওভার ইনভয়েসিং’ (অতি মূল্যায়ন) আর একটি হচ্ছে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ তৃতীয়টি হুন্ডি এবং চতুর্থ পন্থায় পড়ে বিভিন্ন পাচার ব্যবস্থা। দেখা যাচ্ছে আমদানি রফতানি ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে। প্রশ্ন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তো ব্যবসা করেন না তাদের মধ্যে যারা দুর্নীতিবাজ ঘুষখোর, তারা কিভাবে বিদেশে টাকা পাঠাবেন? পাঠাতে গেলে ব্যবসার মাধ্যমে করতে হবে। তাহলে ভারটা গিয়ে পড়ে যারা আমদানি-রফতানি করে তাদের উপর। দ্বিতীয়ত পড়ে হুন্ডিওয়ালাদের উপর। সব চেয়ে বড় কথা টাকা বিদেশে কোথায় রাখা হয়? নিশ্চিতভাবে বিদেশে ব্যবসা বাণিজ্যের টাকা বিনিয়োগ হয়এবং তা বেসরকারিভাবে। এ ধরনের খবর অনেকের কাছে আছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপ ইত্যাদি দেশে কারা ব্যবসা করেন, তাদের বাড়িঘর আছে সহায়-সম্পদ আছে, মুখে মুখে ঢাকা শহরে তা প্রচারিত হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা বিদেশে আছে। তাদের কেউ না কেউ এসব টাকার গন্তব্য স্থল থাকবে, যতদিন ‘ট্যাক্স হেভেন’ ধরনের দ্বীপ রাষ্ট্র থাকবে। যত দিন বিদেশী রাষ্ট্রগুলো বিদেশ থেকে পাওয়া অবৈধ টাকা গ্রহণে অস্বীকৃতি না জানাবে, ততদিন দুর্নীতি লাগাম টেনে ধরা কঠিন হবে। অন্যদিকে দুর্নীতি পরিস্থিতি উন্নয়ন সংক্রান্ত স্কোরে ১০০ নন্ব^রের মধ্যে এবার বাংলাদেশ পেয়েছে ২৬। আগের বছর ছিল ২৮। অর্থাৎ টি আইর তিন সুচকেই বাংলাদেশে র্দুনীতি বেড়েছে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা যায়, ২০০৫ সালের পর পরিস্থিতি অনেকটা উত্তরণ ঘটেছে। কিন্তু এর পর যা আছে তা সহনীয় পর্যায় তা বলার উপায় নেই। বাংলাদেশের দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক চিত্রের অনুজ্জ্বলতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে, তা বলার অবকাশ নেই। দুর্নীতির রাহুগ্রাস আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে শুধু বাধাগ্রস্ত করছে না, এর বহুমুখী বিরূপ প্রভাব সমাজ দেহে পড়েছে এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ও স্ফীত হচ্ছে। জার্মানির বার্লিন ভিত্তিক সংস্থাটি আই ২৯ জানুয়ারী দুর্নীতির যে সূচক প্রকাশ করেছে তা ২০১৮ সালের দুর্নীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় তৈরি একটি ধারনা প্রতিবেদন। দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে ভাল অবস্থানে রয়েছে ভুটান। বৈশ্বিক তালিকায় সর্বনি¤œ স্কোর পেয়েছে সোমালিয়া। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় যে দুর্নীতির যে ব্যাপকতা ফুটে উঠেছে তা উদ্বেগ জনক। বৈশিক বাংলাদেশে র্দুনিিতর বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক সরকারই সরকার প্রধান দুর্নীতির ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি কিংবা সর্তকবার্তা আশাব্যঞ্জক। একই সঙ্গে এও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, দুর্নীতি বিরোধী জোরালো অঙ্গীকার প্রতিশ্রুতির পর ও বিদ্যমান চিত্র সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে নতুন করে বার্তা দিয়েছে। যেমনÑ আইনি ও প্রতিষ্ঠানিক সামর্থ্যরে যথাযথ প্রয়োগ করে নির্মোহ অবস্থান নিয়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের কার্যকর জবাব দিহিতার আওতায় আনতে হবে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনে দৃষ্টি দিতে হবে। সর্বাগ্রে উৎসে হাত দিয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় করতে হবে এবং কোন ব্যাপারে সময় ক্ষেপণ করা যাবে না। আইনের শাসন ন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে আপসহীনতার ব্যাপারে সমভাবে মনযোগী হতে হবে। র্দুনীতি হ্রাসে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সত্যিকার অর্থে করতে হবে কার্যকর। দুর্নীতি বন্ধ করব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাবো এমন অঙ্গিকারের কার্যকারিতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন আছে সে সব নিরসনের ব্যাপারে আটল থাকতে হবে। সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কার্যকরী জাতীয় সংসদ জন প্রত্যাশা মোতাবেক এখন ও আমরা পাইনি। দুর্নীতি হ্রাসে বা দুর্নীতি নির্মুলে সর্বাগ্রে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। দুর্নীতি দমন কমিশনের যে সব সংকট সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাও দূর করতে হবে। অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন যদি দৃশ্যমান করতে হয়। তাহলে এসব শর্তের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে হবে। আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, কোনো র্দুনীতিবাজের বিরুদ্ধে মামলা হলে সেখানে নানা ধরনের জটিলতা ও ফাঁক থাকে এবং এর সুযোগ নেয় দুর্নীতিবাজ কিংবা দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি। এটা অবশ্য বড় সমস্যা বলে মনে করি এবং এ জন্যই দুর্নীতিবাজ চক্র শত অঙ্গিকারের পর ও ভাঙ্গা যাচ্ছে না। দুর্নীতির ব্যাপারে মামলাগুলো যত তাড়াতাড়ি সুরাহা করা যায় এ ব্যাপারে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া দরকার। যে যে ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনাও অদক্ষতা রয়েছে। সেসব চিহ্নিত করে তা বন্ধ করতে হবে। আর দুর্নীতি বন্ধ করতে যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে ধরতে হবে ওপর থেকে। সম্পদের হিসাব শুধু সরকারি কর্মচারী কেন, রাষ্ট্রশক্তির বিভিন্ন স্তরে যারা আছে, তাদের সবার নেয়া দরকার এ ব্যাপারে এ যাবত কথাবার্তা কম হয়নি। কিন্তু কাজের কাজ কতটা হয়েছে বিদ্যমান পরিস্থিতি সাক্ষ্যবহ। উল্লেখ্য, এ ব্যাপারে অতীতে একটি আইনের প্রস্তাব করা হয়ে ছিল। কিন্তু আজ এর কোন ইতিবাচক লক্ষ্য করা যায়নি। তবে এ সত্য সর্বাংশে সত্য বলে মনে করি যে, রাজনীতিবিদ জনপ্রতিনিধিরা স্বচ্ছ থাকলে স্বচ্ছতার আন্দোলন ব্যাপক সক্রিয় হলে এবং তারা দেশ প্রেমবোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে দুর্নীতিবোধের পথ প্রশস্ত হবে। 

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ