বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত

আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এদেশের নদ-নদী-খাল-বিল ঘিরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিরাজ যেখানে করার কথা ছিল সেখানে একটি স্বার্থান্বেষী ভূমি দস্যুদের দৌরাত্বের কারণে এদেশের নাব্যতা হারাতে বসেছে। নদী যদি না থাকে, নদী যদি মৃত অবস্থায় থাকে তাহলে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নষ্ট হয়। আজ তাই হয়েছে। আমাদের রাজধানী ঢাকা আর বুড়িগঙ্গা নদী একে অন্যের অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। চার শতাব্দী আগে অর্থাৎ ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে সুবেদার ইসলাম খান ঢাকাকে সুবেবাংলার রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বুড়িগঙ্গা নামের প্রানবন্ত নদীর বদান্যতায়। আর যেই বুড়িগঙ্গা নদীকে ঘিরে মেগাসিটি হিসেবে ঢাকা গড়ে উঠেছিল তা দখল আর দূষণে সেই নদীকে মেরে ফেলা হয়েছিল। যেই নদী মানবজীবনকে জীবিত রাখে, যে নদী প্রকৃতিকে সুন্দর করে তোলে আর সেই নদীগুলোকে আমরা মানুষ হয়ে নিজেদের স্বার্থের জন্য গলাটিপে হত্যা করে ফেলেছি। যে রাজধানী ঢাকা বুড়ি গঙ্গাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল সেই বুড়িগঙ্গাকে দখল আর দূষণের শিকার বানাতে আমরা মানুষ হিসেবে কতটা নিচে নেমে গিয়েছিলাম তা ভাবতে অবাক লাগে। বুড়িগঙ্গা না থাকলে রাজধানী ঢাকা থাকবে না। আর তাই রাজধানী ঢাকাকে এবং ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করতে বর্তমান সরকার মহাপরিকল্পনা নিয়েছে । যে সমস্ত অবৈধ দখলদার, কারখানা বানিয়ে বুড়িগঙ্গা দখল আর দুষণে পরিণত করেছিল সেই অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সরকার বুড়িগঙ্গার তীরে বিশেষ করে সদরঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত যেসব অবৈধ স্থাপনা ছিল, কামরাঙ্গীরচরে যেসব অবৈধ স্থাপনা ছিল তা যেভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে তা সত্যিই প্রসংশার দাবি রাখে। সরকার যদি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে মানব বর্জ্য আর শিল্পবর্জ্য উচ্ছেদ করে বুড়িগঙ্গার প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারে তাহলে জনগণ সরকারকে মাথায় তুলে রাখবে আর যদি এই অভিযান ব্যর্থ হয় তাহলে জনগণ সরকারকে তাদের মাথা থেকে ছুড়ে ফেলে দিবে। যাইহোক সরকার যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে তাসত্যিই প্রশংসনীয় । একটি মৃত নদীর প্রাণ ফিরিয়ে এনে তাকে ঢাকাবাসীর উপযোগী হিসেবে তৈরি করা সরকারের এখন মূল দায়িত্ব, তার ধর্ম। আর এটাই ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা।
-মোহাম্মদ ইয়ামিন খান, ফরিদপুর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ