সোমবার ২৫ মে ২০২০
Online Edition

আযান বন্ধ করার ঘটনা

শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে মসজিদের আযান বন্ধ রাখবার মতো ব্যাপার ঘটেছে। এটি ঘটেছে গত ৩ মার্চ বরিশালের বানারীপাড়ার মহিষাপোতা প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন জামে মসজিদে। মসজিদের পাশেই স্কুলমাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। এশার সালাতের আযানের সময় সাড়ে ৭ টায় মুয়াজ্জিন সাহেব আযান দিতে গেলে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আযান ও সালাত বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়।

বলা বাহুল্য, পেশীশক্তির ভয়ে আযান বন্ধ রাখা হলেও এলাকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের একাংশের মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ঘটনার পর থেকেই। এর সম্পূর্ণ দায় গড়িয়েছে ক্ষমতাসীনদের ওপর। কারণ ঐ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা পৌর মেয়র সুভাসচন্দ্র শীল। অভিযোগে প্রকাশ, ঐ নেতার নির্দেশেই আযান বন্ধ করা হয়। নৃত্যানুষ্ঠান দীর্ঘক্ষণ চলবার ফলে মসজিদটিতে সেরাতে এশার জামায়াতই আর হয়নি। মুসলিমরা বিরক্ত হয়ে নিজ নিজ বাসায় গিয়ে সালাত আদায় করতে বাধ্য হন। এনিয়ে এলাকার চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মুসল্লিদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার একটি ভিডিও ক্লিপ ধারণ করে সেটি ফেসবুকে আপলোড করছেন ইলিয়াস হোসেন নামক এক মুসল্লি। এতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

এদেশে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এখানে পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ। আযান হয় নিয়মিত। মুসল্লিরা এসে জামায়াতে সালাত আদায় করে চলে যান। জামায়াতের টাইম পরিবর্তন করলে মুসল্লিদের আগেই জানিয়ে দেবার নিয়ম আছে। এর কোনও ব্যত্যয় সাধারণত ঘটে না। কিন্তু সরকার দলীয় নেতা এবং পৌর মেয়রের নির্দেশে সেরাতে ঐ মসজিদে যেমন এশার আযান দেয়া হয়নি, তেমনই মুসল্লিরা সালাতও আদায় করতে পারেননি। তাই মুসল্লিদের ক্ষোভ প্রকাশ যৌক্তিক। কিন্তু ঐ নেতা হুমকিধমকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। যারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেছেন তাদেরও শাসাচ্ছেন। বলা যায়, পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে ঘোলাটে আকার ধারণ করছে।

উল্লেখ্য, বানারীপাড়ার ঐ মসজিদে আযান ও সালাত বন্ধ করা নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভ প্রশমনে ব্যর্থ হলে রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সংঘর্ষের মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের আশঙ্কা। তাই সময় থাকতেই সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ জরুরি যাতে এমন দুঃসাহস আর কারুর না হয় ভবিষ্যতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ