শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

বেলজিয়ামে মাত্র একটি কবুতর বিক্রি হলো সাড়ে বারো লাখ ইউরোতে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বেলজিয়ামে মাত্র একটি চাম্পিয়ন কবুতরের বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১২ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকায়।বেলজিয়ামের নিলাম হাউজ ‘পিপা’র এই কবুতরটির নাম আর্ম্যান্ডো। তারা একে ‌‌বেলজিয়ামের "সর্বকালের সেরা দূর পাল্লার কবুতর" বলে দাবী করেছে। সেই সাথে তাকে "কবুতরের লুইস হ্যামিল্টন" খেতাব দেয়া হয়েছে।চীনের এক ব্যবসায়ী বিশাল দামে এই কবুতরটি কিনে সারা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছেন।তবে, কবুতরটিও ব্যবসায়ী ভদ্রলোককে হতবাক করে দিয়েছিল।

কারণ, সে  যে সে কবুতর নয়, দূরপাল্লার দৌড়ে সবার থেকে এগিয়ে থাকা বেলজিয়ামের চাম্পিয়ন কবুতর।এই বিশাল দামের কারণে কবুতরপ্রেমিদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর আগে নাদিন নামে একটি কবুতরের জন্য দাম উঠেছিল ৩ লাখ ৭৬ হাজার ইউরো। তবে আর্মান্ডোর দাম চোখ কপালে তুলেছে সবারই। অনলাইন নিলামে এটাই সর্বকালীন রেকর্ড। ক্রেতা চীনা ব্যবসায়ীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। বেলজিয়ামের সংবাদ সংস্থা শুধু এতটুকুই জানিয়েছে, তিনি একজন চিনা। এই পায়রা থেকে অন্য চ্যাম্পিয়ন পায়রার প্রজনন করানোই তার উদ্দেশ্য। 

পাঁচবারের বিশ্ব চাম্পিয়ন রেসার লুইস হ্যামিলটন

নিলাম হাউজ পিপাকে বলা হয় কবুতরের স্বর্গরাজ্য।এর প্রধান নির্বাহী নিকোলাস গাইসেলবার্ট তো একেবারে অভীভূত, আরমান্ডোকে এত দামে বিক্রি করতে পেরে।বিবিসিকে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এটা ছিল একেবারে একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা।চীনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বি নিলামকারী কবুতরটিকে নিজের অধিকারে নেয়ার জন্য লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন এবং মাত্র ১ ঘন্টার ব্যবধানে সর্বোচ্চ সাড়ে বারো লাখ ইউরো দর হাঁকিয়ে রেকর্ড করেন।নিকোলাস জানান, এটা ছিল তার কল্পনারও অতীত।তিনি কখনই এতটা আশা করেননি।তাদের সর্বোচ্চ প্রত্যাশা ছিল ৪ থেকে ৫ লাখ ইউরো আর ৬ লাখ ইউরো ছিল তাদের স্বপ্ন।কিন্তু এক মিলিয়নেরও বেশি দামে বিক্রি হওয়াটা ছিল পৃথিবীতে স্বপ্ন, কল্পনা- সবকিছুর বাইরে।

নিকোলাস জানান, বেলজিয়ামে একটি সাধারণ রেসার কবুতর সাধারণত মাত্র আড়াই হাজার ইউরোতে বিক্রি হয়।কিন্তু আরমান্ডো কোন সাধারণ কবুতর ছিল না।এটি ছিল বেলজিয়ামের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা চাম্পিয়ন কবুতর।তিনি আরমান্ডোকে "কবুতরের লুইস হ্যামিল্টন" খেতাব দিয়ে বলেন তার ক্যারিয়ারের শেষ তিনটি রেসের সবগুলোতে সে বিজয়ী হয়েছে। এরমধ্যে ছিল ২০১৮ সালের এইচ পিগিয়ন চাম্পিয়নশিপ, ২০১৯ সালের পিগিয়ন অলিম্পিয়াড এবং অ্যাঙ্গোলেমে।  

কবুতরপ্রেমী জোয়েল ভারস্চুটের হাতে তৈরি এই আর্মান্ডো। এ পর্যন্ত ২০ লাখ ইউরোয় ১৭৮টি কবুতর বিক্রি করেছেন তিনি। বেলজায়িমা ছাড়াও ব্রিটেন, উত্তর ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডের বহু জায়গায় পায়রা দৌড় রীতিমতো জনপ্রিয় এখনও।

সূত্র: বিবিসি

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ