বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শ্লীলতাহানি জেনা-ব্যভিচার ও আমাদের পরিবার ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ

ড. মো. নূরুল আমিন :  [দ্বিতীয় কিস্তি]
আধুনিক শিক্ষিত পরিবারসমূহে যে ভাঙ্গন পরিলক্ষিত হয় তার বেশিরভাগই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার বলি হচ্ছে সংসার, সন্তানদের ভাবাবেগ ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতচিহ্ন নিয়েই তাদের বড় হতে হচ্ছে। সমাজ সভ্যতার সুতিকাগার পরিবারকে এ অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে মানুষের পছন্দ অপছন্দের ওপর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
সূরা আল আরাফ এর ৩৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “বলুন আমার পালনকর্তা নিশ্চিতভাবে ঐ সমস্ত কাজকে হারাম বা নিষিদ্ধ করেছেন যেগুলো অশ্লীল ও লজ্জাকর তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন।” একইভাবে সূরা বনি ইসরাইলের ৩২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “আর ব্যভিচারের কাছেও যেও না, নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল ও মন্দ কাজ যা আরো অন্যায় কাজের পথ প্রদর্শক।”
জ্বিনা : যদি কোনও ব্যক্তি বিয়ের পূর্বে অন্য কোনও ব্যক্তির সাথে সংসর্গ স্থাপন করে তাহলে তাকে জ্বিনা বলা হয়, ব্যভিচারের ন্যায় জ্বিনাও দু’প্রকার :
১. অবিবাহিত কোনও ব্যক্তি যদি অবিবাহিত অন্য কোনও ব্যক্তির সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে জ্বিনা হয়।
২. যদি কোনও অবিবাহিত ব্যক্তি কোনও বিবাহিত ব্যক্তির সাথে মিলিত হয় তাহলেও জ্বিনা হয়। এক্ষেত্রে অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য হয় জ্বিনা এবং বিবাহিত ব্যক্তির জন্য ব্যভিচার।
সূরা ফুরকানের ৬৮ এবং ৬৯ নং আয়াতে আল্লাহ জ্বিনা ব্যভিচারের ভয়াবহ শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, “যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতিত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না তারা ছাড়া যারা এ কাজ করে তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুণ হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে।”
এই আয়াতে আল্লাহ তিনটি ভয়াবহ পাপ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে :
এক. আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা। দুই. হত্যা এবং তিন. জ্বিনা-ব্যভিচার।
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যখন কোনও ব্যক্তি জ্বিনা করে তখন ঈমান তাকে পরিত্যাগ করে, তার মাথার উপর ক্যানভাসের ছাদের ন্যায় একটি বস্তু অবস্থান নেয়। যখন সে জ্বিনার কাজ পরিত্যাগ করে তখন ঈমান তার কাছে ফিরে আসে (আবু দাউদ-৪৬৭৩)। তিনি আরো বলেছেন, যে অবৈধ যৌন সংসর্গে লিপ্ত হয় সে ঐ সংসর্গকালে ঈমানদার থাকে না, একজন চোর চুরি করার সময় মুমিন নয়, একজন মদ্যপ ব্যক্তি মদপান করার সময়ও ঈমানদার নয়, তথাপিও তার পর তার জন্য অনুশোচনার দরজা খোলা (আল-বোখারী-৮,৮০১)
সূরা নূর এর ২নং আয়াতে জ্বিনা-ব্যভিচারের শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। এতে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ব্যভিচারিনী নারী, ব্যভিচারী পুরুষ তাদের প্রত্যেককে ১০০ করে বেত্রাঘাত করো। আল্লাহর বিধান কার্যকরকরণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়। যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। আবার এই অবৈধ সম্পর্কের কারণে যদি ব্যভিচারিনী নারী গর্ভধারণ করে তাহলে তিরমিযি শরীফের হাদীস অনুযায়ী ভূমিষ্ঠ সন্তান কোনও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে না। এই হাদীসে বলা হয়েছে, যদি কোনও লোক কোন স্বাধীন অথবা গোলাম মহিলার সাথে জ্বিনা করে এবং এই জ্বিনার ফলে সন্তানের জন্ম হয় তাহলে সেই সন্তান যেমন কারুর উত্তরাধিকারী হতে পারে না তেমনি অন্য কেউও তার উত্তরাধিকারী হতে পারে না (তিরমিযি-৩০৫৪)
মুসলিম সমাজে বিয়েই হচ্ছে একমাত্র আইনসঙ্গত শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক অনুমোদন যা স্বামী-স্ত্রীকে একত্র বাস এবং মেলামেশার অধিকার দেয়। যাদের বিয়ে করার সামর্থ্য নেই সূরা নূর এর ৩৩নং আয়াতে তাদের সংযমী হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যারা বিবাহে সমর্থ নয় তারা যেন সংযম অবলম্বন করে, যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা আল আহজাব এর ৩৫নং আয়াতে এদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারও ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই মুসলমান পুরুষ মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী পুরুষ যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যেকেরকারী পুরুষ ও যেকেরকারী নারী তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম মহিলাদের বিয়ে করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, বিয়ে আমার সুন্নাত। যে এই সুন্নাতকে উপেক্ষা করবে সে আমার দলভুক্ত নয়।
ইসলামে বিয়েকে সহজ এবং জ্বিনা-ব্যভিচারকে কঠিন করা হয়েছে। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের জন্য এখানে  অনেক দিকনির্দেশনাও রয়েছে। এই পছন্দকে আকস্মিকতা বা হঠাৎ ভালো লাগা কিংবা ভাবাবেগ ও যৌনতা তাড়িত প্রেম ভালোবাসার উপর ছেড়ে দেয়া যায় না। অর্থাভাবে যারা বিয়েশাদী করতে পারে না তাদের সাময়িক মজবুরি জ্বিনা ব্যভিচারের অধিকারও দেয় না বরং চরিত্র ও সতিত্ব রক্ষা এবং ধৈর্যসহকারে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার জন্য তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চারিত্রিক সততার পাহারা আল্লাহর তরফ থেকে নিঃসন্দেহে একটা পরীক্ষা এবং এ পরীক্ষায় পাস করার জন্য দৃঢ় মনোবল এবং কঠোর শৃঙ্খলার অনুশীলন প্রয়োজন। যারা হাজারো প্ররোচনা, লোভ-লালসা এবং ভয়ভীতির মধ্যেও জ্বিনা-ব্যভিচার ও অশ্লীল কাজকর্ম থেকে বেঁচে থাকতে পারে তাদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা এবং মহাপুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। যারা জ্বিনা-ব্যভিচারের স্বাদ নিয়ে পরে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় সূরা নূর এর ৩নং আয়াতে আল্লাহ তাদের জন্য পরিষ্কার দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যভিচারী পুরুষ, ব্যভিচারী নারী অথবা মুশরিক নারীকে ছাড়া অন্য কাউকে বিবাহ করবে না এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিবাহ করবে এবং এদের মুমিনদের হারাম করা হয়েছে। সূরা আল মায়েদার ৫নং আয়াতে ঈমানদারদের জন্যও দিকনির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তোমাদের জন্য হালাল সতি-সাধ্বি নারী যাদের তোমাদের পূর্বে কেতাব দেয়া হয়েছে। যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর তোমাদের স্ত্রী করার জন্য, কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার জন্য কিংবা গুপ্ত প্রেমের জন্য নয়।
উপরোক্ত আয়াতগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে, বিবাহের পূর্বে এবং পরে তথা বিবাহকালীন যৌন পবিত্রতা রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করা এবং জীবনসঙ্গী নির্বাচনে দিকনির্দেশনা প্রদান করাই হচ্ছে এগুলো নাযিলের প্রধান উদ্দেশ্য। আধুনিক শিক্ষিতদের মধ্যে এমনকি মুসলিম সমাজে এখন এমন অসংখ্য লোক আছেন যারা মনে করেন যে বিয়ের পূর্বে কিংবা বিবাহিত জীবনে বহুগামিতা কোন অপরাধই নয়। তারা জ্বিনা-ব্যভিচার করাকে নতুন নতুন স্বাদ আস্বাদনের অধিকার বলে মনে করেন। এরাই আবার নিজের স্ত্রী, পুত্র কন্যার জন্য চারিত্রিক সততাকে অপরিহার্য বলে ধরে নেন। আমাদের আলেম সমাজ, ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং ঈমানদার সাধারণ মুসলমানদের এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে এবং আইন ও সামাজিক অনুশাসনের মাধ্যমে এই অনাচারগুলো সমাজ থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টায় ব্রতি হওয়া অপরিহার্য বলে আমি মনে করি।
এখানে কয়েকটি বিষয় জড়িত। একটি হচ্ছে চলমান সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দৌলা কর্তৃক নুসরাত রাফির শ্লীলতাহানী ও পরবর্তীকালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগেিয় তাকে হত্যার বিচার। এই বিচারের জন্য সারা দুনিয়া অপেক্ষা করছে। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থঅকলে আদালত প্রচলিত আইনে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে। আমি এই আস্থা পোষণ করি। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে দেশব্যাপী ধর্ষণ গণধর্ষণ ও ধর্ষণোত্তর হত্যার যে নারকীয় ঘটনাগুলো ঘটেছে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি। এই বিচারের অনেকগুলো বাধা আছে, এর মধ্যে পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য, সমাজের প্রভাবশালী নেতা ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এই বাধার সাথে জড়িত। তাদের বলয় থেকে বেরিয়ে এসে সরকারকেই এই শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আইন ও প্রশাসনের দুর্বলতায় ধর্ষকশ্রেণি এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এরা শাস্তি পাচ্ছে না। নোয়াখালীর সুবর্ণ চরের গণ-ধর্ষণের সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের যদি কঠোর শাস্তি দেয়া হতো তাহলে পরবর্তী ঘটনাগুলো ঘটতো না, মামলা মোকদ্দমা এখন পুলিশ বাহিনী, প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন দলের কিছু লোকের আয় উপার্জনের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য আমরা বিপুল অর্থ ব্যয় করি। এই প্রশিক্ষণে নৈতিকতার কোন মডিউল নেই। এটা অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা কি আমরা ভুলে গেছি? পুত্র ধর্ষণের আসামী, পিতার লজ্জায় মাথানত হবার কথা। কিন্তু তিনি পুত্রের পক্ষে সাফাই গেয়ে কি বললেন? উঠতি বয়সে ছেলেরা তো কিছু স্ফূর্তি করবেই। আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে এ থেকেই বোঝা যায়। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার এবং সরকারি দলের ভূমিকা অপরিসীম। আমি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদ্যাপন কিংবা ইডেন ও আনন্দ মোহনের ছাত্রীদের প্রেস কনফারেন্সে রাজনৈতিক নেতা ব্যেবসায়ী ও বিদেশীদের মনোরঞ্জনে অনৈতিক কাজে তাদের বাধ্য করার অভিযোগের বিষয়টিও এখানে স্মরণ করিয়ে দেব না।
আজ রাস্তা ঘাট, শহর গ্রাম, গাড়ি ঘোড়া, স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা মক্তব কোথাও মেয়েদের নিরাপত্তা নেই। তারা যদি নিরাপদ না হয় তাহলে আমরা মা পাবো কোথায়? মা’ই যদি না থাকে দুনিয়াতে, এই দেশকে ধারণ করবে কে?
আলোচনার শুরুতে আমি সংক্রামক ব্যাধি ওলাওঠার কতা বলেছিলাম। ওলাওঠা নির্মূলের জন্য এই দেশকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। পরিবেশ সৃষ্টি করতে হয়েছে। রাস্তা ঘাটে, ঝোপ জঙ্গলের আড়ালে পায়খানা করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট জায়গায় ওয়াটার সীলড ল্যাট্রিন ব্যবহার এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়া শেখাতে হয়েছে। বিনা পয়সায় ও পরে কম পয়সায় পায়খানার রিং ও স্ল্যাব সরবরাহ করতে হয়েছে। সামাজিক ব্যাধি ধর্ষণ-শ্লীলতাহানি রোধের জন্যও এই ধরনের নৈতিক শিক্ষা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন। ইন্টারনেট ও প্রচার মাধ্যমে অশ্লীল ছবি ও ব্লু ফ্লিম, যৌনতা এবং পার্ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ক্লাবে অশ্লীল আচার অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের শ্রেণি কক্ষে যৌন শিক্ষা প্রদান ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সামনে উলঙ্গ নারীর প্রদর্শনী করে তা হতে পারে না। এটা নারীর প্রতি আমাদের মা’দের প্রতি অমর্যাদা। সহশিক্ষা ও মেয়েদের শ্রেণিকক্ষে পুরুষ শিক্ষকদের শিক্ষাদান কার্যক্রম কমিয়ে এ কাজে যথাসম্ভব মেয়েদের ব্যবহার করা হলে পরিবেশ আরো ভাল হতে পারে। [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ