সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গ্যাসের অপচয় রোধ না করে মানুষের ওপর বাড়তি দাম চাপানো হয়েছে -আলাল

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী চালক দল আয়োজিত গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : জনগণ সবাই একতাবদ্ধ হলে গ্যাসের দাম কমাতে বাধ্য হবে সরকার বলে মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, গ্যাসের অপচয় রোধ না করে মানুষের ওপর বাড়তি দাম চাপানো হয়েছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী চালকদল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তিতাস গ্যাস একটি পূর্ণ লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের রাজস্ব পাওনা রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। ডেসা, ডেসকো মিলে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনবিআর এর পাওনা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। মোট ৪৫ হাজার কোটি টাকা ফাঁকি দিয়ে সেখান থেকে আওয়ামী লুটেরাদের সুবিধা দিচ্ছে সরকার। সেসব দুর্নীতি, লুট না থামিয়ে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে সরকার। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিএনপি ঘোষিত বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, গণবিরোধী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন কোনও বিলাসবহুল বিষয় না। অথচ সরকার সেই মোবাইল ফোনে শতকরা ২৭ টাকা নিয়ে যাবে। বাজেট ঘোষণা হওয়ার আগে থেকে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। যাত্রী সংকটে পড়েছে পরিবহগুলো। দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে এ সরকার। এ সরকারের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হবে।
আলাল বলেন, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যবসায় নেমেছে ক্ষমতাসীনরা। অন্যদিকে গ্যাসের অপচয় রোধ না করে উল্টো সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি দাম চাপানো হয়েছে। এভাবে গ্যাসের দাম বাড়ানো শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগকে মানায় না। এটা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে মানালেও শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগের ধ্যান-ধারণার সঙ্গে যায় না। কথায় কথায় সাধারণ মানুষের পকেট কাটা এ সরকারের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিকের রিপোর্ট হিসেবে যে ৭ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, তা দিয়ে ১৮টি পদ্মাসেতু নির্মাণ করা যেতো এবং মেট্রোরেলের অনেক কাজ এখান থেকে করা যেতো। বিএনপির এই নেতা বলেন, মোবাইল ফোন কোনো বিলাসবহুল বিষয় না। অথচ সরকার সেই মোবাইল ফোনে শতকরা ২৭ টাকা নিয়ে যাবে। বাজেট ঘোষণা হওয়ার আগে থেকে বাজারে জিনিস পত্রের দাম বেড়েছে। যাত্রী সংকটে পড়েছে পরিবহগুলো। দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে এই সরকার। এই সরকারের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হবে।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিএনপি ঘোষিত বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে আলাল বলেন, ‘গণবিরোধী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। জনগণ একতাবদ্ধ হলে গ্যাসের দাম কমাতে সরকার বাধ্য হবে। তাই এই নিপীড়ন-শোষণমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামতে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে যখন গ্যাসের দাম কমছে তখন সরকার গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে। এবারই প্রথম নয়, দশ বছরে সরকার গ্যাসের দাম সাত দফা বাড়ালো। অন্যদিকে দেশের সরকারি গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারালেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। জনগণকে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে সরকার অসাধু ব্যবসায়িদের পকেট ভরাচ্ছে।
সবকিছুতে ভ্যাট বাড়ানো সরকারের অনৈতিক সিদ্ধান্ত মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইলে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ২৭ টাকা সরকারের পকেটে চলে যাচ্ছে, সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। অন্যান্য জিনিসের দাম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা এই বাজেটকে প্রত্যাহার করছি এবং গ্যাসের দাম অবিলম্বে সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এই লুটেরা ও স্বৈরাচারী সরকারকে গণ আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটানো হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী চালক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন কবীর বলেন, ‘জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া লুটেরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধন করছি এবং আমরা এই আন্দোলন অব্যাহত রাখবো। এই ভোট ডাকাতির সরকার জনগণের স্বার্থ আমলে না নিয়ে রাঘব বোয়ালদের সুবিধা দিচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চলতে পারে না। আমরা ১৬ কোটি মানুষের স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এ সময় অবৈধ গ্যাস লাইন বিরতণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
কৃষকদলের সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মানিক তালুকদার ও মুক্তার আকন্দ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ