শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে হজ্বের নিদর্শন

ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমাদ : মহান আল্লাহ পাকের হুকুমে বায়তুল্লাহ যিয়ারতের মনস্থ করার নাম হল হজ্ব। বায়তুল্লাহ মানে আল্লাহর ঘর। আল্লাহ হলেন সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মহামহিম প্রভু। এই আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে আমরা প্রভু রূপে মানি না। তা হল ইমানের মূল ভিত্তি - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। সেই এক ও একক প্রভু আল্লাহর ঘর হল কা’বাঘর। এই কা’বাঘরের যিয়ারতে আল্লাহর নিদর্শনাবলী অবলোকন করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ হয়। ফেরেস্তাগণ কা’বাঘরে হজ্ব করতো। হজ্ব করেছেন আদম (আ) এবং অন্যান্য নবী রাসূলগণ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য হজ্ব করা ফরয বা অবশ্য কর্তব্য। শুধু ফরযই নয়, হজ্ব ইসলামের ৪র্থ রুকন বা ভিত্তি। রাসুল (স) বলেছেন, “ইসলাম পাঁচটি ভিতের উপর কায়েম আছে। তা হলো: - (১) এ সাক্ষ্য দেয়া যে,আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ বা প্রভু নেই এবং মুহাম্মাদ (স) আল্লাহর বান্দাহ ও রাসুল। (২) নামায কায়েম করা,(৩) যাকাত আদায় করা, (৪)বাইতুল্লাহর হজ্ব পালন করা,(৫) রমযানের রোযা পালন করা।”(বুখারী ও মুসলিম )
হজ্বের নিদর্শনাবলীর মধ্যে কা’বাঘর, মাকামে ইব্রাহীম, সাফা-মারওয়া, হাজরে আসওয়াদ, যমযম কূপ, মীনা. মুযদালিফা, জামরাহ, আরাফাহ, জাবালে রহমত, জাবালে নূর, জাবালে সউর, মদীনা মুনাওয়ারা, মহানবীর কবর,জান্নাতুল বাকী, জাবালে ওহোদ,বদরের প্রান্তর ইত্যাদি সবই হাজীদের জন্য মহান নিদর্শনাবলী।
হজ্ব করতে গিয়ে হাজী সাহেব যখন কা’বাঘরের তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ায় সাঈ, মাকামে ইব্রাহীমে দুই রাকাত সালাত আদায়, যমযম কূপের পানি পান, হারাম শরীফে সালাতের পর সালাত আদায়, মীনায় অবস্থান ও পশু কুরবানি, মুযদালিফায় রাত্রি যাপন, জামরাতে বারবার কংকর নিক্ষেপ, আরাফার মাঠে দু’হাত তুলে দীর্ঘ দোয়ায় কান্নাকাটি, মদীনাতুল মুনাওয়ারায় ৮দিনব্যাপী সালাত আদায়, বিশ্বনবী (সা.) এর কবরের যিয়ারত ও সালাম প্রদান, যিয়ারত করে জান্নাতুল বাকী, ওহোদ পাহাড়, জাবালে রহমত, জাবালে নূর কিংবা কুরআনে বর্ণিত অন্যান্য স্থানসমূহ তখন চিন্তাশীল হাজীদের হৃদয় ক্বলবে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া কতইনা সহজ হয়ে যায়।
আল্লাহ বলেন, “নিঃসন্দেহে প্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, তাতো মাক্কায়, যা বরকতমন্ডিত এবং সারাজাহানের জন্য পথপ্রদর্শক। তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী রয়েছে, যেমন মাক্বামে ইব্রাহীম অর্থাৎ ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর যায়গা। যে কেউ তাতে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ হবে। মহান আল্লাহর জন্য উক্ত ঘরের হজ্ব করা লোকদের উপর ফরয বা অবশ্য কর্তব্য যার সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে এবং যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, সে জেনে রাখুক নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ বিশ্ব জাহানের মুখাপেক্ষী নন।” (সূরা আল ইমরান ৯৬,৯৭)
 ইসবাহানীর বর্ণনায়, হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন- হজ্ব আদায়ে ত্বরিত উদ্যোগী হও। অর্থাৎ ফরজ হজ্ব দ্রুত আদায় কর। কেন না কখন কি বাধা বিঘ্ন এসে পড়বে কেউ জানো না।
ইসবাহানীতে আরো বর্ণিত। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা:) বর্ণনা করেন। রাসুল (সা:) বলেছেন-আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আ:) কে ওহীর মারফত বললেন- হে আদম, তোমার কোন অঘটন ঘটার আগে এই ঘরে হজ্ব আদায় করে নাও। আদম (সা:) বললেন- হে আমার প্রতিপালক, আমার কী অঘটন ঘটবে? আল্লাহ বললেন- সে তুমি জান না। মৃত্যু হতে পারে। আদম (আ:) বললেন- মৃত্যু আবার কী ? আমার বংশ ধরের মধ্যে কাকে আমি আমার দায়িত্ব হস্তান্তর করবো ? আল্লাহ বললেন- আকাশ ও পৃথিবীর কাছে পেশ কর। আদম (আ:) প্রথমে আকাশের কাছে তাঁর দায়িত্ব পেশ করলেন। সে ঐ দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালো। তারপর তিনি পৃথিবীর কাছে পেশ করলেন। সেও তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালো। তারপর তিনি পাহাড় পর্বতের কাছে তা পেশ করলেন। সেও অস্বীকার করলো। অবশেষে এই দায়িত্ব গ্রহণ করলো তার সেই ছেলে, যে নিজের ভাইকে হত্যা করেছিল। এরপর হযরত আদম (আ:) ভারতবর্ষ থেকে হজ্বের উদ্দেশ্যে সফরে বেরুলেন। পথিমধ্যে তিনি যেখানেই পানাহার করার জন্য যাত্রা বিরতি করলেন, সেখানেই পরবর্তীকালে জনবসতি গড়ে উঠলো। এক সময় তিনি মক্কা শরীফে এলেন। এখানে ফেরেশতারা তাকে অভ্যর্থনা জানালো। তারা বললেন- হে আদম, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আপনার হজ্ব নিষ্কলুষ ও নিখুঁত হোক। আমরা আপনার দুই হাজার বছর আগে এই ঘরে হজ্ব করেছি। রাসুল (সা:) বললেন- সেদিন কাবাঘর লাল রং-এর ইয়াকুত পাথর দিয়ে নির্মিত ছিল এবং ভেতরে ফাঁকা ছিল। যে তাওয়াফ করতো, সে ঘরের ভেতরে যারা আছে তাদেরকে দেখতে পেত। কাবাঘরের তখন দুটো দরজা ছিল। আদম (আ:) তার হজ্ব সমাধা করলেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে ওহীযোগে জিজ্ঞেস করলেন- হে আদম, তোমার হজ্ব আদায় সম্পন্ন করেছ? আদম বললেন- হে আমার প্রভু, করেছি।
হাজরে আসওয়াদ : হজ্বের কেন্দ্রবিন্দু হল কা’বাঘর। আর কা’বাঘরের কেন্দ্রবিন্দু হল হাজরে আসওয়াদ। অতি প্রাচীন ও সেরা নিদর্শন এই হাজরে আসওয়াদ। এই হাজরে আসওয়াদ আল্লাহর পক্ষ থেকে বেহেস্ত হতে আল্লাহই পাঠিয়েছেন। অতি মূল্যবান এই পাথর। বিশ্বনবী এই পাথরে চুমু দিতেন। হযরত ইব্রাহীম(আ) কা’বাঘরের দক্ষিণ পূর্ব কোণে এই হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করেন। এই হাজরে আসওয়াদ যথাযথভাবে পুনঃস্থাপণ করে বিশ্বনবী(স) নবুয়ত লাভের আগেই কুরাইশদের মধ্যকার বিবধমান বংশীয় সম্ভাব্য সংঘর্ষের সমাধান করেন। তিনি বলেন,‘ হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইব্রাহীম বেহেস্তের দু’টি ইয়াকুত পাথর।
মাকামে ইব্রাহীম : পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ বলেন,“স্মরণ কর, আমরা যখন বাইতুল্লাহকে মানুষের জন্য কেন্দ্র, শান্তি, নিরাপত্তার স্থান হিসেবে তৈরী করেছি এবং নির্দেশ দিয়েছি, তোমরা মাকামে ইব্রাহীমে নামায পড়।”(সূরা বাকারা ১২৫)
মাকামে ইব্রাহীম মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পাঠানো প্রাচীন ও বিখ্যাত নিদর্শন। রাসূলুল্লাহ(স) বলেছেন,“নিশ্চয়ই হাজরে আসওয়াদ এবং মাকামে ইব্রাহীম বেহেস্তের দু’টি ইয়াকুত পাথর। আল্লাহ এ দু’টি পাথরের নূর মিটিয়ে দিয়েছেন। নূর না মিটালে, এগুলোর আলোতে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমস্ত ভূখন্ড আলোকোজ্জ্বল হয়ে যেত।”
ফাকেহী উল্লেখ করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন সালাম বলেন - আল্লাহ যখন ইব্রাহীম (আ) কে লোকদের প্রতি হজ্বের আহ্বান জানানোর নির্দেশ দেন তখন তিনি মাকামে ইব্রাহীমের উপর দাঁড়ান। পাথরটি তাঁকে নিয়ে সর্বোচ্চ পাহাড়ের সমান উঁচুতে উঠে। তখন তিনি বলেন - হে লোকেরা, তোমরা তোমাদের রবের ডাকে সাড়া দাও। লোকেরা সাড়া দিয়ে বললো - লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। অর্থাৎ ‘আমরা হাজির। হে আল্লাহ, আমরা হাজির।’
তখন পাথরটির উপর তাঁর পায়ের দাগ পড়ে যায়। তিনি ঐ কাজ থেকে অবসর হওয়ার পর আল্লাহ তা’য়ালা পাথরটিকে তাঁর সামনে রাখার জন্য নির্দেশ দেন এবং পাথরটিকে সামনে রেখে ইব্রাহীম (আ) বাবুল কা’বার দিকে মুখ করে নামায পড়েন।
ইবনে জরীর হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: “ইব্রাহীম (আ) কা’বা নির্মাণ শেষ করার পর আল্লাহ তাঁকে মানুষের প্রতি হজ্বে আসার আহ্বান জানানোর নির্দেশ দেন। তখন তিনি উঁচুতে উঠেন এবং বলেন: হে লোকেরা, তোমাদের রব তোমাদের উদ্দেশ্যে একটি ঘর তৈরী করেছেন, তোমরা সে ঘরের হজ্ব কর এবং আল্লাহর ডাকে সাড়া দাও। মানুষ তখন বাপের পৃষ্ঠদেশ এবং মায়ের পেট থেকে সাড়া দিয়ে বলেছে - আমরা তোমার ডাকে সাড়া দিলাম। হে আল্লাহ আমরা হাজির।’ তারপর রাসূলুল্লাহ(স) বলেন: আজ যারা হজ্ব করে তারা সবাই হযরত ইব্রাহীম (আ) এর ডাকে কম বেশী সাড়া প্রদানকারী।’
হযরত আদম(আ) তাওয়াফ শেষ করে যেখানে নামায পড়েন সেখানেই মাকামে ইব্রাহীম অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ (স)ও তাওয়াফ শেষ করে সেখানে দু’রাকাত নামায পড়েন এবং সেখানেই তাঁর উপর নাযিল হয়: ওয়ত্তাখাযু মিম মাকামি ইব্রাহীমা মুসাল্লা। অর্থ ‘তোমরা মাকামে ইব্রাহীমে নামায পড়।
সম্মানিত কা’বার সংরক্ষণ : মহান আল্লাহপাক বলেন,“স্মরণ কর,যখন আমি ইব্রাহীম(আ)কে কা’বাঘরের স্থান নির্ধারণ করে দিলাম,তখন নির্দেশ করলাম যে, আমার সংগে কোন বস্তুকে অংশী করো না, আর আমার ঘর তাওয়াফকারী, এবাদাতে দন্ডায়মান ব্যক্তি ও রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখবে। (সূরা হজ্ব ২৬)
সম্মানিত কা’বার সংরক্ষণে স্বয়ং আল্লাহপাক দায়িত্ব নিয়ে কা’বা ধ্বংস করতে আসা ইয়েমেনের হাতি বাহিনীকে সমূলে ধ্বংস করে দিলেন। কুরআন পাকের ছোট্ট সূরা ফীলে তার বর্ণনা রয়েছে। তা হলো,“তুমি কি দেখনি, তোমার রব হাতিওয়ালাদের সাথে কী (ব্যবহার) করেছেন ? তিনি কি তাদের চালাকী বানচাল করে দেন নি ? আর তিনি তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠালেন যারা তাদের উপর পাকা মাটির তৈরি পাথর ফেলছিল। ফলে তাদেরকে (পশুর) চিবানো ভুসির মত করে দিলেন।”(সূরা ফীল)
মসজিদে হারাম : আল্লাহ বলেন:“নিশ্চয়ই ( সেই সব লোক শাস্তির উপযুক্ত) যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং অন্যদেরকে বাধা দিচ্ছে আল্লাহর পথ ও মসজিদুল হারাম থেকে, যাকে আমি সমস্ত মানুষের জন্য সমান করেছি তারা স্থানীয় হোক বা বাহিরাগত। আর যে কেউ এখানে জুলমে রত হয়ে বাঁকা পথের ইচ্ছা করবে আমি তাকে মর্মন্তুদ শাস্তির শ্বাদ গ্রহণ করাব।” (সূরা হজ্ব ২৫)     
আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর কালামে পাকে এভাবে ১৫ বার ‘মাসজিদে হারাম’ উল্লেখ করে আয়াত নাযিল করেছেন। রাসুলুল্লাহ (স) এবং হযরত আবুবকর (রা) এর আমলে কা’বাসহ তাওয়াফের জন্য নির্ধারিত স্থানটুকুকেই মসজিদে হারাম বলা হতো। ‘আল্লাহ পাক মক্কাকে হারাম করেছেন।’ (বুখারী ও মুসলিম )‘মাসজিদে হারাম’ শব্দের ভিতর কা’বা, মক্কা এবং পুরা হারাম এলাকা, এসব কয়টি অর্থই অন্তর্ভুক্ত আছে। ইবনে মাজার এক রেওয়াযেত মতে, মক্কার নামাযের ফযিলত ১ লক্ষ গুণ বেশী। তা হলে মক্কার সব মসজিদই ১ লক্ষ গুণ ফযিলতের অন্তর্ভুক্ত।
সাফা - মারওয়া পাহাড়ে সাঈ : আল্লাহপাক বলেন:“সাফা এবং মারওয়া নিশ্চয়ই আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্যতম। যে ব্যক্তি হজ্ব কিংবা উমরাহ করে তার জন্য এ পাহাড়দ্বয়ে সাঈ করা গুণাহর বিষয় নয়। আর যে ব্যক্তি নিজ ইচ্ছা ও উৎসাহে কোন মঙ্গলজনক কাজ করবে আল্লাহ তার সম্পর্কে অবহিত এবং এর মূল্য দান করবেন।”(সূরা বাকারা১৫৮)
সাফা মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে দৌড়ানোতে মা হাজেরার যে পেরেসানী সৃষ্টি হয়েছিল আল্লাহপাক তা কবুল করেছেন। অনন্তকালের জন্য সব হাজীদেরকে উক্ত সাফা মারওয়া পাহাড়ের মাঝে ৭ বার করে সাঈ করা হজ্বের অংশ বানিয়ে দিলেন। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের বিরাট এক নিদর্শন হিসেবে সাফা মারওয়াকে প্রতিষ্ঠা করে দিলেন।
বরকতময় যমযম কূপ  : ঘটনার অংশ হল ইব্রাহীম (আ) ইসমাইলসহ মা হাজেরাকে জনমানবহীন মরু প্রান্তরে আল্লাহর হুকুমে রেখে যান। আজকে যেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিখ্যাত কা’বাঘর রয়েছে, সেদিন এখানে কোন কিছু ছিল না। যৎ কিঞ্চিৎ খাবার ও পানি রেখে গিয়েছিলেন তা শেষ হয়ে যায়। শিশু ইসমাইল হাত পা আছরিয়ে করুণভাবে কাঁদছে । ওদিকে মা হাজেরা সন্নিকটের সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে সাহায্যের জন্য খুব পেরেসানীর সাথে দৌড়াতে লাগলেন। আল্লাহপাক এ দৃশ্যে অভিভুত হয়ে জিব্রাইল ফেরেস্তাকে পাঠিয়ে দিলেন । তিনি শিশু ইসমাইলের পায়ের নিচ দিয়ে পানির ঝর্ণা প্রবাহিত করে দিলেন। মা হাজেরা পাহাড় থেকে ফিরে এসে এমন পানির ঝর্ণা দেখে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে চারিদিকে বাঁধ দিয়ে তা সংরক্ষণ করতে থাকেন আর মুখে বলতে থাকেন,‘যম’ ‘যম’ (থাম, থাম)। সেই থেকে শুরু হল যমযম কূপের বরকতময় পানির প্রবাহ। হাজীদের জন্য যমযমের পানি পান করা বিশ্বনবী(স) সুন্নত করে দিলেন। হযরত জাবের(রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ(স) বলেছেন,“যমযমের পানি কোন ব্যক্তি যে নিয়তে পান করবে তার সে নিয়ত পূরণ হবে।”(ইবনে মাজাহ) সহীহ ইবনে হিব্বানে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রা) রাসূল থেকে বর্ণনা করেন:“যমীনের উপর সর্বোত্তম পানি হচ্ছে যমযমের পানি।”
হযরত জিব্রাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ(স) এর বুক চিরে হৃদপিন্ড বের করে যমযমের পানি দিয়ে ধুয়ে তিনি তা যথাস্থানে রেখে দেন। যমযমের পানি ক্ষুধা নিবারণসহ সব রোগের মহৌষধ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পানীয় হয়ে আসছে। তাই সারা বিশ্বব্যাপী এই পানির সরবরাহ চলছে। কিন্তু কোন দিন যমযমের পানির অভাব কেউ দেখেনি।
জামরায় কংকর নিক্ষেপ  : হযরত আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: “বাইতুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা - মারওয়ায় সাঈ এবং জামরায় শয়তানকে কংকর মারার মধ্যে আল্লাহর জিকির ও স¥রণকে প্রতিষ্ঠা করাই মূল উদ্দেশ্য।”(আহমাদ, আবু দাউদ, দারামী, তিরমিযী )

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ