বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

নিহত ৭ শিশুর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন ॥ বিক্রেতাকে আসামী করে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর রূপনগর থানার শিয়ালবাড়ি বস্তিতে বিস্ফোরণে নিহত সাত শিশুর লাশের  ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার  দুপুর সোয়া ১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে একে একে ছয় শিশুর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্ত হওয়া ছয় শিশু হচ্ছে, রিয়া মনি (৮), নুপুর (১১),  ফারজানা (৭), রিফাত (৮), রমজান (১১) ও রুবেল (১১)।  

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের লেকচারার ডা. কে এম মাইনুদ্দিন বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে ছয় শিশুই শারীরিকভাবে আঘাত পেয়েছিল। কারও হাত, কারও পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পেটে আঘাতের কারণে নাড়িভুঁড়ি বেড়িয়ে যাওয়ায় মৃত্যু হয়েছে। 

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপনগরে নিহত অপর শিশু নিহাদের (৮) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহামুদ।

বেলুন বিক্রেতা সুস্থ হলে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

গ্যাসবেলুনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় বেলুন বিক্রেতা আবু সাঈদ (৩০) চিকিৎসাধীন থাকায় আদালতে হাজির করা হয়নি। এই মামলায় পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। এসময়, আবু সাঈদ সুস্থ হলে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এই আদেশ দেন। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দিনগত রাত ৩টায় পুলিশ বাদী হয়ে আবু সাঈদের বিরুদ্ধে রূপনগর থানায় নরহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপনগর থানার পরিদর্শক দীপক কুমার দাস আদালতে জানান, আবু সাঈদ আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় হাজির করা যায়নি।

বুধবার বিকেলে রূপনগর আবাসিক এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ঘটনাস্থলে পাঁচজন, বুধবার রাতে ঢামেক হাসপাতালে শিশু নিহাদ ও পঙ্গু হাসপাতপালে চিকিৎসাধীন শিশু রিয়ার মৃত্যু হয়।

‘গ্যাস সিলিন্ডার নজরদারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবো’

গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবো। গতকাল বৃহস্পতিবার  দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রূপনগরে বেলুন ফোলানোর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে এসে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

নাসিমা বেগম বলেন, এটা একটা মানবিক বিপর্যয়। রাস্তায় পাবলিক প্লেসে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আহতদের সবাই বেলুন কেনার জন্য সিলিন্ডারের কাছে যাননি। তারা পথচারী ছিলেন। কিন্তু ঘটনার শিকার হতে হলো তাদের।

বাসাবাড়িসহ বিভিন্নস্থানে যেসব গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে, সেদিকে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। সিলিন্ডার যাতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে, কেউ যেন মেয়াদোত্তীর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার না করে।

নাসিমা বেগম বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা আগেও ঘটেছে। চকবারের চুরিহাট্টায় গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার থেকে হতাহতের ঘটনা ঘটল। এসব থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এই ঘটনায় আহত-নিহতদের পরিবার নিম্ন আয়ের। চিকিৎসা যে চালাবে, সে সামর্থ্যও তাদের কম। সরকারের উচিত তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে নজর দেওয়া। একজন নারীর (জান্নাত) ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, সে তো খেটে খাওয়া মানুষ। সে এখন কীভাবে কাজ করে খাবে। আমরা না হয় তাকে আর্টিফিসিয়াল হাতের ব্যবস্থা করে দিলাম। কিন্তু এটা দিয়েও কী সে আগের মতন কাজ করতে পারবেন?

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেব যেন গ্যাস সিলিন্ডারের নজরদারির বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নেয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলব, যাতে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে তারা সহায়তা করেন। একই সঙ্গে শিশুদের বাবা-মাকেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নাসিমা বেগম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ