বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০
Online Edition

পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দখল সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি, দখল, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন কাজীরহাট থানার ৫ নম্বর বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সঞ্জয় চন্দ্র। এর আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে সঞ্জয় চন্দ্র বলেন, দুর্নীতি করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন এমপি পংকজ দেবনাথ। ভারত, কানাডা ও রাশিয়ায় পংকজ দেবনাথের বাড়ি ও ব্যবসা রয়েছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, উত্তরায় বিলাসবহুল ১০তলা বাড়ি, মালিবাগে পোশাক কারখানা ও পরিবহন ব্যবসাসহ নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে তার। বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় ২৪০টি গাড়ি চলে তার। অবৈধভাবে এসব সম্পদ বানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার সাড়ে ১১টায় বরিশাল নগরীর সদর রোডের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন ইউপি সদস্য ও কাজিরহাট থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক সঞ্জয় চন্দ্র।
লিখিত বক্তব্যে সঞ্জয় বলেন, পঙ্কজ নাথ নিজের নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসছেন। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলছেন তাদের হামলা-মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। তিনি (সঞ্জয়) নিজেও তার সন্ত্রাসী, হামলা-মামলার শিকার।
তিনি অভিযোগ করেন, পঙ্কজ নাথ ভুয়া ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নয়টি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য করেছেন। যার মধ্যে ভুয়া ঠিকানা দিয়ে চাকরি নিয়েছেন সাংসদের ভাই মনোজ কুমার নাথের স্ত্রী। অবৈধ নিয়োগসহ অন্যান্য অভিযোগ তুলে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ দুর্নীতি দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন সঞ্জয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দুদক মামলাটির তদন্ত শুরু করে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি দুদক বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান তদন্ত করছেন।
লিখিত বক্তব্যে সঞ্জয় আরো অভিযোগ করেন, মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পঙ্কজ নাথ ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তার দুটি পা, একটি হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দেয়। এরপর সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ১২ জুন মেহেন্দিগঞ্জ নতুন ডাকবাংলোর ভিআইপি ১ নম্বর কক্ষে নিয়ে সঞ্জয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে মৃত ভেবে তাকে নদীতে ফেলে দেয়।
এ ছাড়াও গবিন্দপুর ইউনিয়নের চরে দেড় হাজার একর জমি দখল, আলিমাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুরের গাগড়িয়ার চরে তার চাচাতো ভাই রাম কৃষ্ণ নাথ হাজার হাজার একর জমির ভুয়া খতিয়ান খুলে ঘর তৈরি করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য, রাতের আঁধারে ভুয়া রেজুলেশন দেখিয়ে জনপ্রতি ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ৮০০ জনকে জমি বন্দোবস্ত কার্ড দেওয়াসহ অনেক অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, ডিও লেটার দিয়ে বালুমহালের টেন্ডার বন্ধ করে ছোট ভাই মনজ কুমার দেবনাথ ও চাচাতো ভাই রিপন দেবনাথের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন পংকজ দেবনাথ। টেন্ডারবাজি, সিন্ডিকেট ও জেলা পরিষদের ঘাট দখল করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের ফান্ডের নামে টেন্ডারবাজি করে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৫ ভাগ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন পংকজ দেবনাথ।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। ছয় বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে প্রতিপক্ষদের ইন্ধনে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথকে সম্মেলন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশ দেন।
পংকজ দেবনাথ বরিশাল-৪ আসনের বর্তমান এমপি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও নিজ নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগের একাংশ সাংবাদিক সম্মেলন করে পংকজ দেবনাথের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং ক্যাডার দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করেছিল। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর আলোচনায় আসেন তিনি।
আগামী ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। এর আগে মোল্লা মো. আবু কাওছার ও পংকজ দেবনাথকে সরিয়ে দেয়ার পর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এক নেতাকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০০৯ সালে ঢাকায় পরিবহন ব্যবসা শুরু করেন পংকজ দেবনাথ। বিহঙ্গ নামে পরিচালিত তার পরিবহন একটি রুট নিয়ে শুরু করে ব্যবসা। গত বছর পর্যন্ত পাঁচটি রুটে ২৪০টি বাস চলছে তার কোম্পানির।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ