বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০
Online Edition

জাবি ভিসিকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দুর্নীতির পক্ষে সুস্পষ্ট সাফাই: রিজভী

ফাইল ফটো

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদেরকে শাস্তি পেতে হবে' বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এ নেতা বলেন, “আপনারা শুনেছেন, মিডনাইট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনবে, তাদের সে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণ করতে না পারলে মিথ্যা অভিযোগকারীদেরকে শাস্তি পেতে হবে।’ এটা স্পষ্টত যে, প্রধানমন্ত্রীর এই হুমকির কণ্ঠ আইয়ুব-ইয়াহিয়া-হিটলার-মুসোলিনির কণ্ঠের প্রতিধ্বনি।”

তিনি বলেন, “জাবি ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছে স্বয়ং ছাত্রলীগ। ভিসি কীভাবে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করেছিলেন তা গণমাধ্যমে বিশদভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ছাত্রলীগের পদচ্যুত সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতারা ভিসি এবং ভিসির পরিবারের বিরুদ্ধে টাকা লেনদেনের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন সেটিও গণমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রীতিধন্য জাবির ভিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং গতকাল প্রধানমন্ত্রী ভিসিকে রক্ষা করতে বক্তব্য দিয়ে দুর্নীতির পক্ষে সুস্পষ্ট সাফাই গাইলেন।”

রিজভী আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মিডনাইট সরকারটি দুর্নীতির বহু দৈত্যাকার কেলেঙ্কারিতে নিমজ্জিত। এখন কেউ যাতে তার সরকার ও প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে না পারে এ জন্যই তার এই হুমকি ধমকি।”

তিনি বলেন, “যিনি বা যারা অভিযোগ উত্থাপন করবেন, তাদেরকেই যদি দুর্নীতির প্রমাণ হাতে নিয়ে আন্দোলন করতে হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাজ কী? আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের কাজ কি শুধু বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে অবৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখা? কারণ শেখ হাসিনার আমলে মৃত্যু জীবনের ছায়াসঙ্গী হয়ে আছে।”

অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সাদেক হোসেন খোকার পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ না দেয়ার সমালোচনা করে রিজভী বলেছেন, “বর্তমান সরকার একাত্তরের গেরিলা যোদ্ধা মরহুম সাদেক হোসেন খোকার পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ দেয়নি। তাকে রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকদের মতো ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিয়ে দেশে আনা হয়েছে।এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে স্বাধীনতার স্পিরিটকে ক্রমশ: ফিকে করছে; কিন্তু মরহুম সাদেক হোসেন খোকার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে প্রমাণিত হয়েছে সরকার চক্রান্ত করলেও জনগণের হৃদয়স্পর্শী আবেগকে স্তব্ধ করে রাখা যায় না।”

তিনি বলেন, তবে দেশবাসী বেদনার্ত যে, এদেশের বীর সন্তান সাদেক হোসেন খোকা জীবনবাজি রেখে যে দেশটা স্বাধীন করতে বীরোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিদেশে মারা যাওয়ার পর তিনি নিজ দেশে ফিরলেন ‘রিফিউজি’ কিংবা ‘রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে’র মতো ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে যারা এখন রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে আছেন, তারা সাদেক হোসেন খোকাকে পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ দিতে অস্বীকার করেছে।-পার্স টুডে

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ