ঢাকা, বুধবার 5 August 2020, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর মিরপুরের বাসায় ২ নারী খুন, পালিতপুত্র আটক

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বর সেকশনের বাসা থেকে এক বৃদ্ধা এবং তার গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে এই ঘটনা ঘটে।তবে কী কারণে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

নিহতরা হচ্ছেন গৃহকর্ত্রী রহিমা ওরফে সাহেদা বেগম (৬০) ও তার গৃহকর্মী সুমি (২০)। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন সোহেল নামে এক যুবককে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে এই বিষয় বিস্তারিত জানানো যাবে।

তিনি আরো বলেন, এই বাসায় সোহেল নামে একটি পালিত ছেলে থাকতো। সে আসলে কী পরিচয়ে কেন থাকতো সেটি এখনও আমরা বুঝতে পারছি না। মঙ্গলবার রাতে ওই ছেলেকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে আটক করা হয়েছে। তবে তাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় তার কোনও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা সেটি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার পরে মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের ‘এ’ ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার বাসায় গিয়ে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে।

জানা গেছে, সুমি মাত্র একদিন আগে ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেন। আটক সোহেল গৃহকর্ত্রীর পালিত ছেলে হিসেবে ওই বাসায় থাকতেন।

স্থানীয়রা জানান, রহিমা ওরফে সাহেদা বেগম ও তার পালিত ছেলে সোহেল ৬ মাস আগে মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ২ নম্বর রোড়ের ১১ নম্বর বাসাটির চার তলায় দুই রুমের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানেই থাকতেন তারা। ফ্ল্যাটটির মালিক হচ্ছেন মো. আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তি।

নিহত সাহেদার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাহেদা বেগমের স্বামী কুদ্দুছ মিয়া থাকেন যশোরে। তাদের মেয়ে রাশিদা বেগম তার পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। সোমবার (২ ডিসেম্বর) রহিমার বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যুক্ত হন সুমি। পরদিনই গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে হত্যা করা হয় তাকে

নিহত রহিমার মেয়ে সংবাদ পেয়ে মিরপুরের ওই বাসায় ছুটে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমার মা এই বাসায় একা থাকতেন। আর তাকে দেখাশোনার জন্য সোহেল নামে একটি ছেলে মায়ের সঙ্গে থাকতো। আমার মায়ের হার্টের সমস্যা ছিল। তার  ডায়াবেটিসও ছিল। আজ (মঙ্গলবার) বিকাল ৪ টার দিকে সোহেল আমাকে ফোন দিয়ে জানায় যে আপা খালাম্মাকে আর কাজের মেয়েকে কারা যেন কুপিয়ে মারছে লোকে বললো। তখন আমি আমার স্বামীকে নিয়ে দ্রুত চলে আসি।

তিনি জানান, কয়েকদিন আগে আমার মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তখন বলছে, সোহেল নাকি টাকা চুরি করছিল। এই নিয়ে মন কষাকষি ছিল। আমরা ধারণা করছি টাকা পয়সার জন্য সোহেল আমার মাকে আর বাসার কাজের মেয়েকে হত্যা করেছে।

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ