বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আবারো তৎপর ইয়াবা রাঘব-বোয়ালরা ॥ কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

এস,এম,সালাহ্উদ্দীন,আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: ইয়াবার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী সাঁড়াশি অভিযান  ঘোষণার পর মাঝে কিছুদিন আত্মগোপনে চলে গেলেও আবারো তৎপর চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারার ইয়াবা গডফাদার’রা।

 গত তিন বছরে আনোয়াারা থানা পুলিশ প্রায় ২২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করে ৪৪৬ জনকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে ৩৪১টি মামলা দেওয়ার পরে ও ইয়াবা চক্রের শক্ত নেটওর্য়াক ভাঙ্গা সম্ভব হয়নি। রাঘব-বোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন অনেকে। আবার অনেকে জামিনে বের হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে আগের একই ব্যাবসা। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৌশল বদল করে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তবে অভিযানের কারণে ইয়াবার দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, সারাদেশের বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে ৮৪জন, র্যাবের সঙ্গে ৩৪জন, এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে ৩৫জন সর্বমোট ১৫৩জন নিহত হলেও আনোয়ারা একজনও নিহত না হওয়ার কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া রয়ে গেছেন। অনেকে জামিন নিয়ে এসে অনেকটা প্রকাশ্যেই তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আনোয়ারা গহিরা ও জুইদন্ডী এলাকার সাগড় পাড়ের লোকজন মনে করছেন সাগড়ে চলাচলরত ট্রলার যে গুলো গহিরা ও জুইদন্ডী পাড়ে আসে সেগুলোকে প্রশাসনের তল্লাশির এর আওতায় আনতে না পারলে মাদক রোধ করা সম্ভব নয়। 

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক কারবারীর সাাথে জড়িত যারা গ্রেফতার হয়েছিল তাদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি না হওয়ায় তাদের এমন তৎপরতা আবারো দেখতে হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কঠোর না হলে মাদক প্রবেশ কিংবা ব্যবসা ঠেকানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় অভিযান ও হবে 'চোর পুলিশ' খেলার মতো। গত কয়েকদিন যাবত আনোয়ারা পারকী সমূদ্র সৈকত এলাকায় মদের বড় চালান খালাসের খবরে পুরো আনোয়ারায় গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কিন্তুু এখনো পর্যন্ত চালান উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০১৮ সালে সংশোধণ করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কারও কাছে ২০০ গ্রাম ইয়াবা পাওয়া গেলেই তার মৃত্যুদন্ডের বিধাণ করা হয়েছে।

 এব্যাপারে আনোয়ারা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি আব্দুরনূর চৌধূরী বলেন, শর্ষের ভিতরে যদি ভূত থাকে তাহলে কোনো মহৎ উদ্দেশ্যই সফল হবে না। একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য মাদকই যথেষ্ঠ। ইয়াবার মতে ভয়ঙ্কর মাদক কোথা থেকে আসছে, কোন পয়েন্ট দিয়ে আসছে তা তো আনোয়ারার প্রশাসন ও সরকারের সর্বোচ্চ মহল পর্যন্ত অবগত। তাই আমার পরার্মশ আনোয়ারার সংসদসদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পরার্মশ ক্রমে আনোয়ারা উপকূলীয় সাগড়পাড় এলাকায় একটি যৌথবাহিনী গঠণ করা উচিত। যতদিন পর্যন্ত ইয়াাবার প্রবেশ বন্ধ হবে না, ততদিন পর্যন্ত ওই বাহিনী ওই এলাকায় কাজ করবে। তা নাহলে আনোয়ারাকে পুরোপুরি মাদক মুক্ত করা সম্ভব হবে না। 

এব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধরী জানান, আনোয়ারা উপজেলাকে মাদক মুক্ত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে যাচ্ছি। ভূমিমন্ত্রীর পরিষ্কার নির্দেশ আছে মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি আরোও বলেন আনোয়ারায় এতো উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তুু একমাত্র মাদক ইয়াবার কারণে আমাদেরকে লজ্জিত হতে হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীকে জারজ সন্তান উল্লেখ্য করে একজন উপজেলা জনপ্রতিনিধি হিসেবে যতটুকু ভূমিকা রাখার দরকার তাহা পালন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।

 এব্যাপারে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) দুলাল মাহমুদ মোবাইল ফোনে জানান, মাদক ব্যবসায়ী সে যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে আনোয়ারা থানা পুলিশ। এখানে কে ছোট, কে মাঝারি আর কে গডফাদার তাদের কেউই আইনের উর্ধ্বে নন। আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

গত কয়েকদিন যাবত মদের বড় চালান খালাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন,ঐ এরিয়াটা কর্নফুলী থানার। আমার শুনেছি মদের একটি বড় চালান খালাস হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর পর সব জায়গায় পুলিশের র্সোজ, গোয়ান্দা ও প্রশাসনের লোকেরা তৎপর রয়েছে। চালানটি উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছি। যদি আনোয়ারা থানার এরিয়ার ভিতরে পাওয়া যায় তাহলে এতটুকু নিশ্চিন্তে বলা যায় যে সে যতবড় রাঘববোয়াল হোক তাদের মূল শিকড় বের করা হবে।কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান।

 এব্যাপরে কর্ণফুলীর বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) শাহ আলম সুমন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি। স্হানীয় জন প্রতিনিধিসহ সকলের সাথে যোগাযোগ করে সকল তথ্য নিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছি। ঘটনা হলো ঐ এরিয়াটা সীমান্তবর্তী হওয়ায় সঠিক সময়ে তথ্য পেতে দেরী হয়েছে। যদি সত্যিই মদের চালান খালাস হয়ে থাকে তাহলে আশাকরি প্রশাসনের জালে আটকে পড়বে বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ