মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪
Online Edition

পর্যটকের পদচারণায় মুখর কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র

আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিশ্ব ঐতিহ্য সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধীন কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি ও ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র এখন পর্যটকের পদচারণায় মুখর। ট্রলার থেকে নামতেই এক ঝাঁক বানর ছুটে এসে স্বাগত জানাবে আপনাকে। পরপরই দেখতে পাবেন কিছু হরিণ আপনার আশে পাশেই ঘোরাঘুরি করছে। এছাড়াও আছে গেওয়া, গরান, বাইন, পশুর, গোলপাতা, হোগলা পাতাসহ নানান প্রজাতির বৃক্ষ। রয়েছে কুমির, মদন টাকসহ হাজারো প্রাণবৈচিত্র্য। কটকা, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট, দুবলারচর, হাড়বাড়িয়া, করমজল ও কলাগাছিয়াসহ সুন্দরবনের আকর্ষণীয় স্পটগুলো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীরা মেতে উঠেছে সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগে। বনের ভিতরে গড়ে তোলা ইকো-ট্যুরিজম সেন্টারগুলোর ওয়াচ টাওয়ারে উঠে সুন্দরবনের মনোমুগ্ধকর অপরূপ সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হচ্ছে পর্যটকরা। এই বনের সৌন্দর্য দেখতে প্রতি বছরই লাখো পর্যটক ভিড় করেন। সাতক্ষীরা শহর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে চুনা নদীর তীরে মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড। এ পাশে বাসস্ট্যান্ড, ওপারে সুন্দরবন। সাতক্ষীরা থেকে সুন্দরবন দেখার একটা বিশেষত্ব আছে আর তা হলো এখানে বাস থেকে নেমেই স্বল্প খরচে সুন্দরবন দেখা যায়। 

শ্যামনগরের নীলডুমুর ট্রলার চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, বাংলাদেশের যে পাঁচটি জেলা নিয়ে সুন্দরবন, তার মধ্যে সাতক্ষীরা দিয়ে কেবল বাস থেকে নেমেই সুন্দরবন দেখা যায়। দেশের যেকোনো এলাকা থেকে বাসযোগে শ্যামনগর, মুন্সীগঞ্জে নামলেই সামনে পড়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। আর একটু ভেতরে যেতে চাইলে লোকালয় থেকে একেবারে কাছাকাছি কলাগাছিয়া। খুব অল্প খরচে ট্রলারে যাওয়া যায় কলাগাছিয়া। শীতের শুরু থেকেই পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। ঢাকা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা শিল্পী মিরাদুল মুনিম জানান, বন্ধুদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণের স্বপ্ন ছিল অনেক দিনের। এবার তা পূরণ হলো। অন্যান্য জায়গার তুলনায় সাতক্ষীরা অংশের সুন্দরবন দেখা সহজ। এখানকার ব্যবস্থাপনাও ভালো। রাজধানীর মতিঝিল থেকে সুন্দরবন ভ্রমণে আসা রহমান আজিজ বলেন, সুন্দরবন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এ দিয়ে চার বার আসা হলেও প্রত্যেকবার নতুন করে দেখি সুন্দরবনকে।

এদিকে, সুন্দরবন ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের জন্য নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে চুনা নদীর তীরে সুন্দরবনের কোলে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। বিকেলের সময়টা ভালোই কাটবে সেখানে। কিভাবে যাবেন : রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি শ্যামনগরের বাস পাওয়া যায়। অথবা দেশের যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো মাধ্যমে শ্যামনগর পৌঁছে লোকাল বাস বা অন্য যেকোনো যানবাহনে চড়ে মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছুলেই রাস্তার পাশের দোকানগুলোর পিছনে তাকালে চোখে পড়বে সুন্দরবন। থাকা খাওয়া ভ্রমণের জন্য পাবেন বেশ কয়েকটা রিসোর্ট। থাকতে পারেন ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায়ও। মুন্সীগঞ্জ থেকে সুন্দরবনের ভেতরে কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে যেতে ট্রলার ভাড়া পড়বে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। যদি আরেকটু এগিয়ে নীলডুমুর ঘাট থেকে ট্রলার নেওয়া যায়, খরচ হবে অর্ধেক।

পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর অনেক বেশি পর্যটক আসছেন। সুন্দরবনে এবার পর্যটন মৌসুম শুরুর পর থেকে দেশী পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। সাতক্ষীরা পৌরসভা থেকে আসা পর্যটক ইয়াসিন মোল্যা বাবুল জানান, সাগর কোলে গাছঘেরা সুন্দরবনের নান্দনিক দৃশ্য তাকে বারবার কাছে টানে। আবেগ উজাড় করে সে আওড়ায়,‘কবির ভাষায়- সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে, সার্থক জনম মা গো তোমায় ভালোবেসে।’ পর্যটক ইয়াসিন মোল্যা বাবুল বলেন, সুন্দরবন আমাদের মায়ের মতো। এ বনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক আসেন। কিন্তু নদী থেকে কলাগাছিয়া ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে উঠার সময় কাঠের তৈরি পাটাতনটি বড্ড নড়বড়ে। নদীতে জোয়ারের সময় সমস্যা না হলেও ভাটির সময় সমস্যা। তাছাড়া পাটাতনটি কাঠের তৈরি হওয়ায় ভেঙে পানিতে পড়ে তার সাথে আসা অন্ততঃ আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মাহাদী, রাব্বি নামের দুই শিশুসহ নূরুল ইসলাম, রাজু আহমেদ, জাকির হোসেন ও ইয়াহিয়া রয়েছেন। এছাড়া সেখানে একজন নিরাপত্তাকর্মীও পানিতে পড়ে আহত হয়েছেন বলে জানান পর্যটকরা।

 এব্যাপারে কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি ও ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা জানান, পর্যটকরা কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি ও ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে উঠার পাটাতনটি পাকাকরণের কাজ চলমান। কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেই দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে শুক্রবার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরও জানান, পদ্মা সেতু হওয়ার পরে সাতক্ষীরা রেঞ্জে পর্যটকদের আনাগোনা অনেকগুন বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ‘সড়কপথে সুন্দরবন’ স্লোগানটি একটি ব্রান্ডিং।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ