বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪
Online Edition

রাঙ্গুনিয়া নামকরণ নিয়ে নানা কথা

রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের দৃশ্য 

নুরুল আবছার চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে:  রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নাম করণে অনেকে হরেক রখম তথ্য দিয়ে থাকে। মূলত, ইতিহাস বিশ্লেষকদের মতে আরাকানের রাজা মোগলদের মধ্যে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ওরা সব ধরনের  ধন সম্পদ পেলে ওই অঞ্চল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ওইসময় কাল থেকে এই অঞ্চলের নাম হয় রাইন্যা। উপজাতিয় মগ গোত্রের একজন শতবর্ষী রীপন মগ জানান, রাইন্যা শব্দের অর্থ হলো পরিত্যক্ত। পরবর্তীতে রাইন্যা শব্দ থেকে রইন্যা তথা রাঙ্গুনিয়া শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। শত বছর পূর্বে এখানকার প্রচুর লোকজন বার্মার রেঙ্গুন শহরে চলে যেতো। ওতেই  এ  উপজেলাকে বলা হতো রেঙ্গুন্যা। পর্যায়ক্রমে  এর নাম পরিবর্তন হয়ে রাঙ্গুনিয়া হয়। অনেক গবেষক মতে,  ঐতিহাসিক হামিদুল্লাহ খাঁ কর্তৃক ফার্সি ভাষায় চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাস আহাদিসুল খাওয়ানিন রচনা করেছিলেন। ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে এর এক কপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এই গ্রন্থে রাঙ্গুনিয়াকে রঙ্গীনা নামে উল্লেখ করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও গবেষক মরহুম সৈয়দ আহমদুল হক রচিত প্রবন্ধ ‘বিচিত্রা’য় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফার্সি ভাষায় রঙ্গিনা শব্দের অর্থ হল রঙে রঞ্জিত অর্থাৎ সৌন্দর্য্য। তার মতে, রাঙ্গুনিয়া ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যম-িত মনোরম স্থান। তাই চিরহরিৎ অনুচ্চ শৈল শিখর ও কর্ণফুলি নদী বিধৌত এ অঞ্চল সুলতানী আমলে পরিচিত ছিল রঙ্গীনা নামে। পরবর্তীতে এই রঙ্গীনা শব্দ থেকেই রইন্যা বা রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে। গভেষক এনায়তুর রহিম জানান, 

১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে চাকমা রাজন্যবর্গের শাসনাধীন ছিল। এই রাজন্যবর্গের ভিতরে ছিলেন- শুকদেব রায়, শেরদৌলত খাঁ, জানবক্স খাঁ, টব্বর খাঁ, জব্বর খাঁ, ধরম বক্স খাঁ, রাণী কালীন্দি, হরিশচন্দ্র রায় প্রমুখ। ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে চাকমা রাজা হরিশচন্দ্র রাজধানী রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর থেকে রাঙ্গামাটিতে স্থানান্তরিত করেছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামলে এই অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামের অংশে চলে আসে। পাকিস্তান শাসনামলে এই অঞ্চল চট্টগ্রাম জেলার অংশ ছিল। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি পটিয়া এবং রাউজান থানার কিছু অংশ নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ