ঢাকা, রোববার 14 October 2012, ২৯ আশ্বিন ১৪১৯, ২৯ জিলক্বদ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

কম খরচে গুণগতমানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করবে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার : কম খরচে গুণগত মানসম্পন্ন উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করবে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও মানব কল্যাণে ভূমিকা রাখাই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যকমের আসল উদ্দেশ্য। গরীব ও মেধাবীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থাকবে এ বিশ্বদ্যিালয়ে। চলতি বছর ১৪ মার্চ হামদর্দ বিশ্ববিদ্যায় অনুমোদন পেয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করেছে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, কলা ও সমাজবিজ্ঞান এবং ব্যবসায় প্রশাসন এই তিনটি অনুষদে ৭টি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে। আগামী ৮ নবেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে।  ভবিষ্যতে স্নাতক পর্যায়ে আয়ুর্বেদ ও ইউনানী বিষয়েও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থাকবে।

গতকাল শনিবার হামদর্দ ভবনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, হামদর্দ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও হামদর্দ ল্যাবরেটরীজের (ওয়াকফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া ও বিশ্বদ্যিালযের প্রস্তাবিত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড.মোহাম্মদ মশিহুজ্জামান। লিখিত বক্তব্য পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. লুৎফুর রহমান।উপস্থিত ছিলেন, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড.সৈয়দ আকরাম হোসেন, ট্রেজারার রফিকুল ইসলাম, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালযের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. মো.রফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপিকা শিরি ফরহাদ ও জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া রাসেল প্রমুখ। প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য কাজী মনসুর উল হক।

ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা ব্রিজের পূর্বপাড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণে ফুলদি নদীর তীর ঘেঁষে ১০০ বিঘা জমিতে নির্মিত হচ্ছে নিজস্ব সুবিশাল ক্যাম্পাস। বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও নিউটাউনে। এছাড়া সাময়িক তথ্য কেন্দ্র হিসেবে হামদর্দের প্রধান কার্যালয় থেকেও তথ্য জানা যাবে।

হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ড.হাকীম ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া বলেছেন, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত মান নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। মুনাফা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কম খরচে গুণগত মানসম্পন্ন উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করবে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা চাই এখান থেকে শিক্ষা অর্জন করে শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক ও সাদামনের মানুষ হবে। তারা দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। সেভাবেই শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা হবে।

ভিসি ড. মোহাম্মদ মশিহুউজ্জামান বলেন, হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে। মুনাফা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য নয়। তাই মেধাবী গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ৬ ভাগ কোটা বাড়িয়ে ১০ ভাগ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতেই স্পষ্ট মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে ভিসি ড. মোহাম্মদ মশিহুজ্জামান বলেন, আগামী ২০ বছরের মধ্যে হামদর্দ বিশ্বিবিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা বিস্তার, জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সক্ষম হবো বলে আশা করা যায়। এসময়ে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে শীর্ষস্থানে নিয়ে আসা যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের আরেকটি প্রশ্নের জবাবে কাজী মনসুর উল হক বলেন, হামদর্দ ফাউন্ডেশন মেধার মূল্যায়ন করে থাকে। এর প্রমাণ হলো-হামদর্দ ফাউন্ডেশন পরিচালিত রাজধানীর কলাবাগানে প্রতিষ্ঠিত হামদর্দ পাবলিক কলেজ। সারাদেশের অবহেলিত ও হতদরিদ্র কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের এখানে ভর্তি করে বিনা বেতনে থাকা-খাওয়াসহ পড়ানো হচ্ছে। এসব মেধাবীরা আগামীতে ভালো ফলাফল অর্জন করে কলেজের জন্য সুনাম বয়ে আনবে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ