মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২০
Online Edition

ঠাকুরগাঁওয়ে মন্দির দখল নিয়ে হিন্দুদের দুই গ্রুপের বিরোধ সড়ক অবরোধ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ভাতগাঁও গ্রামের রশিক রায় জিউ মন্দিরটি ইস্কন ভক্তদের দ্বারা অবৈধ দখলের প্রতিবাদে ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মন্দিরটি হস্তান্তরের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং রাস্তার ওপর প্রতিমা রেখে  বিক্ষোভ করেছে এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকায় পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের মাঝে প্রতিমা রেখে, টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করে এবং প্রায় ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় রাস্তার উভয় পাশে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় বিশাল যানজট, এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। বেলা ১টার দিকে জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন পৌঁছলে তাদের সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ইসকন ভক্তরা আলোচনায় বসার পর রাস্তার এক পাশ দিয়ে যান চলাচলের জন্য ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে  ঘটনাস্থলে র‌্যাব পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসক সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ইস্কন ভক্তদের উভয়কে শান্ত হয়ে পূজা সম্পন্ন করতে বলেন, এবং আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা করতে পারবে তবে মন্দিরের ভিতরে নয়, বাহিরে।

এ ব্যাপারে জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো বলেন, আপাতত জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে সারদীয় দূর্গা উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে পালনের আহবান জানানো হয়েছে। তবে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইন্দ্রনাথ রায় বলেন, জেলা প্রশাসন পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এর নির্দেশ অমান্য করেছে। পরিস্থিতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুকূলে নেই। মন্দিরের বাইরেই এবার পূজা উৎযাপন করা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা-মামলা হতে পারে তাদের মাঝে এমন আশংকা বিরাজ করছে। মন্দির রক্ষার জন্য পূজার পর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রশিক রায় জিউ মন্দিরে দূর্গাপূজা নিয়ে ইস্কন ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ইস্কন ভক্তদের  হামলায় ফুলবাবু নামে একজন ধর্মাবলম্বী নিহত হয়। এ নিয়ে আইনশৃংখলার অবনতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন মন্দিরটি সিলগালা করে দিয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ