ঢাকা, শনিবার 9 February 2013, ২৭ মাঘ ১৪১৯, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৪ হিজরী
Online Edition

রাজনীতি ও সমাজসেবায় ধনবাড়ীর নবাব পরিবারের অবদান

র. ম. আওরঙ্গজেব : টাঙ্গাইল জেলার সর্ব উত্তরের থানা ধনবাড়ী। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা হতে ৯৭ মাইল, জেলা সদর টাঙ্গাইল হতে ৩৭ মাইল উত্তরে এবং জামালপুর হতে ১৮ মাইল দক্ষিণে ধনবাড়ীর অবস্থান। বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের স্বনামধন্য মুসলিম জমিদার পরিবারের বাসভূমি রয়েছে এখানে। সাড়ে চারশত বছর আগের কথা। ভারতবর্ষের মোগল বাদশাহ মহামতি জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের শাসনামলে বাংলা প্রদেশের ময়মনসিংহের নাম ছিল সরকার বাজুহা (তখন জেলাকে সরকার বলা হত)। সরকার বাজুহার পরগনা পুখুরিয়ার একটি সমৃদ্ধ গ্রাম ধনবাড়ী। তখন ধনবাড়ীর জমিদার ছিলেন ধনঞ্জয় সওদাগর মতান্তরে ধনপতি সিংহ। তার নামানুসারে এলাকার নাম ধনবাড়ী হয়। তিনি দাদন ব্যবসা করে বিপুল অর্থের মালিক হন। তবে তিনি প্রজাদের অত্যাচার করতেন। দরিদ্র প্রজারা দাদনের অর্থ দিতে পারত না। প্রজারা জমিদার কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। মোগল বাদশাহ আকবরের সেনাপতি রাজা মানসিংহের সাথে সন্তোষের যুদ্ধে আতিয়ার সামন্ত শাসক বায়েজিদ খাঁন পন্নী নিহত হন। তার পুত্র সৈয়দ খাঁন পন্নীর আবেদনে সেনাপতি মনোয়ার খাঁ ও ইসপিঞ্জার খাঁ ভ্রাতৃদ্বয়ের অধিনায়কত্বে ২ শতাধিক মোগল সৈন্য ধনপতিকে আক্রমণ করেন। ধনপতি ভীত হয়ে কুমিল্লা জেলার সরাইলে পলায়ন করলে বিনা যুদ্ধে ধনবাড়ী মনোয়ার খাঁ ও ইসপিঞ্জার খাঁর হস্তগত হয়। মোগল বাদশাহ আকবরের সনদ পেয়ে খাঁ ভ্রাতৃদ্বয় ধনবাড়ীর জমিদারী লাভ করেন এবং তাঁতের ব্যবসা করে প্রভূত অর্থের মালিক হন। খাঁ ভ্রাতৃদ্বয়ের সুশাসনের ফলে প্রজারা এলাকায় ফিরে আসে। প্রজাদের মনে স্বস্তি ও শান্তি ফিরে আসে। মনোয়ার খাঁর উত্তরসুরী আকবর আলী খাঁ চৌধুরীর নামে ১৭৯৩ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১০ সালা বন্দোবস্ত প্রদান করেন। মনোয়ার খাঁ ও তাদের উত্তরাধিকারীদের শাসনে ধনবাড়ী ক্রমে সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হয়।

ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রী, বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রথম প্রস্তাবক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ধনবাড়ীর স্বনামধন্য নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর প্রপিতামহ সৈয়দ খোদা বখশ ধনবাড়ী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তিনি ছিলেন ইমাম আবু হানিফা ও শাহ আব্দুল কাদির (রহঃ) এর বংশের লোক। সৈয়দ খোদা বখশের আদি পুরুষ শাহ আতিকুল্লাহ বাগদাদ হতে দিল্লী আসেন। আকবর আলী খাঁ চৌধুরীর ওয়ারিশ রাজা আলী খাঁন চৌধুরী শাহ সৈয়দ খোদা বখশের কন্যা সাইয়েদা তালিবুন্নেসা খাতুনকে বিবাহ করেন। নিঃসন্তান অবস্থায় রাজা আলী খাঁন চৌধুরীর মৃত্যু হলে বিধবা তালিবুন্নেসা খাতুন ধনবাড়ী জমিদারীর ওয়ারিশ হন। নিঃসন্তান তালিবুন্নেসা খাতুনের ইন্তিকালের পর সৈয়দ খোদা বখশ ধনবাড়ীর প্রাপ্ত জমিদারী প্রাপ্ত হলে স্থায়ীভাবে ধনবাড়ী চলে আসেন। তিনি ছিলেন পীর এবং জমিজমা ও সম্পদের প্রতি অনাসক্ত। সৈয়দ খোদা বখশের পুত্র সৈয়দ জোনাব আলী চৌধুরী পরে জমিদারী লাভ করেন। তাঁর একমাত্র পুত্র সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী (১৮৬৩-১৯২৯) ছিলেন ভারত উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান জমিদার ও প্রখ্যাত রাজনীতিক। তিনি ১৯২৯ সালে মৃত্যুর ৯ দিন পূর্বে তাঁর  সমুদয় সম্পত্তি জনকল্যাণে ওয়াক্ফ করে দেন। তিনি ১৯০৬-১৯১১ পর্যন্ত পূর্ব বঙ্গ ও আসাম প্রদেশের ব্যবস্থাপক সভার সদস্য, ১৯১২-১৯১৬ পর্যন্ত বাংলার ব্যবস্থাপক সভার সদস্য, ১৯১৬-১৯২০ পর্যন্ত ভারতের ব্যবস্থাপক সভার সদস্য ছিলেন। ১৯২১ সালে তিনি বাংলার আইনসভার সদস্য হন। ১৯২১-২৪ সাল পর্যন্ত প্রাদেশিক কৃষি, শিল্প, পূর্ত ও আবগারী বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মূলত তিনিই বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রী। তিনি ১৯২৫ সালেও মন্ত্রী হয়ে মাত্র কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করেন। সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সাহিত্য ও সাংবাদিকতায়ও অবদান রাখেন। তাঁর সম্পাদনায় ১৮৯৫ সালে কলকাতায় নিজস্ব আলতাফী প্রেস থেকে সুধাকর-মিহির পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এছাড়া ইসলাম প্রচারক ও প্রচারক পত্রিকা দু'টি তাঁর আর্থিক সাহায্যে প্রকাশিত হয়। তিনি ঈদুল আযহা, মৌলুদ শরীফ, Vernacular Education in Bengal, Primary Education in Rural Areas, Views on the Present Political situations in India এসব  গ্রন্থ প্রণেতা। তিনি ১৮৯৬ সালে (১৩০৩ বাংলা) ধনবাড়ীতে নবাব মঞ্জিলের পশ্চিমে ঈদগাহ নির্মাণ করেন এবং ঈদুল আযহার নামাজে ইমামতি করেন। তিনি বুঝতে পারেন আরবি খোৎবা বাংলা ভাষাভাষি মানুষের পক্ষে বোধগম্য নয়। এজন্য কোরবানী ও ঈদুল আযহার তাৎপর্য নিয়ে মাতৃভাষা বাংলায় খোৎবা দেন। যার সার সংক্ষেপ নিয়ে পরে বিস্তারিতভাবে ঈদুল আযহা গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ১৯১১ সালে রংপুরে প্রাদেশিক শিক্ষা সম্মেলনে বাংলার রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি জানান। তিনি ব্রিটিশ সরকারকে লিখিতভাবে জানান যে, ভারতের রাষ্ট্রভাষা যাই হোক না কেন বাংলার রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতে হবে। তিনি ১৯২৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দার্জিলিং-এ নিজ বাসভবন ইডেন ক্যাসেলে ইন্তিকাল করেন। তাঁকে ধনবাড়ী নবাব মঞ্জিল মসজিদের মিনারের নিচে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার বড়লাটের নির্দেশে সারা বাংলায় শোক পালন এবং পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ধনবাড়ীর জমিদার হিসেবে অনেক জনহিতকর কাজ সম্পাদন করেন। উল্লেখযোগ্য হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিক সংকটে পড়লে নিজ জমিদারী বন্ধক রেখে ৩৫ হাজার টাকা দান করেন। এছাড়া ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ সাহায্য দেন। অবশেষে জনহিতকর কার্য সম্পাদনের জন্য নিজ জমিদারী ১৯২৯ সালের ৮ এপ্রিল মৃত্যুর মাত্র ৯ দিন পূর্বে ওয়াকফ করে দেন। নওয়াব আলী চৌধুরী নির্মাণ করেন দৃষ্টিনন্দন নওয়াব মঞ্জিল, নওয়াব প্যালেস, নওয়াব

ইনস্টিটিউট, সখিনা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এতিমখানা। ১৯৯১ সালে তার পৌত্রী সৈয়দা আশিকা আকবর পিতা-মাতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন আসিয়া হাসান মহিলা কলেজ যা নওয়াব প্যালেসের পেছনে নির্মিত হয়েছে।

নবাব পরিবারের সকলেই শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সমাজসেবায় খ্যাতি অর্জন করেন। খ্যাতিমান জমিদার সত্ত্বেও কৃষক, প্রজাদের প্রতি তাদের গভীর মমত্ববোধ ছিল। সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র নবাবজাদা সৈয়দ আলতাফ আলী চৌধুরী (১৮৮৭-১৯৪৪) তার নানা বগুড়ার জমিদার আবদুস সোবহান চৌধুরীর বিশাল সম্পত্তি লাভ করেন। এজন্য তিনি সপরিবারে বগুড়া চলে যান এবং বগুড়া নবাব এস্টেটের মোতওয়ালী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯০৮ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম সরকার কর্তৃক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হয়ে নোয়াখালী ও বরিশালে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বগুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান (১৯১৪-২৩), বগুড়া জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান (১৯২৬-৩২, ১৯৪২-৪৩) ছিলেন। স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ পূর্ব হতে বঙ্গীয় আইনসভার (১৯২৪-২৬) সদস্য এবং বগুড়া হতে একই দল হতে আইনসভার সদস্য (১৯২৭-৩৫) হন। ১৯৩৭ সালে হক সাহেবের কৃষক শ্রমিক পার্টিতে যোগদান করেন। ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় আইনসভার নির্বাচনের পর এ দল হতে সরকার মনোনীত সদস্য হন। ১৯৪৪ সালের ৭ আগস্ট মৃত্যু পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।

সৈয়দ আলতাফ আলী চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী (১৯১০-১৯৬৩) একজন নামকরা রাজনীতিবিদ হিসেবে সুপরিচিত। তিনি বগুড়া জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বঙ্গীয় জেলা বোর্ড সমিতির সম্পাদক, মিউনিসিপালিটি এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, কৃষি বোর্ড, রেশম কমিটি ও জেলা শিল্প তদন্ত কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী মোহাম্মদ আলী ভারতীয় ফুটবল সমিতির কার্য নির্বাহক পরিষদ ও বঙ্গীয় হকি সমিতির সদস্য ছিলেন। মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বগুড়া জেলা মুসলিম লীগের চেয়ারম্যান (১৯৩৭-৪৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুসলিম লীগের মনোনয়নে বগুড়া হতে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য (১৯৩৭-৪৬) হন। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিনের সংসদীয় সচিব (১৯৪৪-৪৫), হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও অর্থমন্ত্রী (১৯৪৬-৪৭) ছিলেন। পাকিস্তান আমলে গণপরিষদ সদস্য (১৯৪৭-৫৩) হন। এছাড়া বার্মা, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। গবর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীকে ১৯৫৩ সালের ১৭ এপ্রিল অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত করেন। ১৯৫৫ সালের ৭ জুলাই পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু ও বাংলা, উভয় পাকিস্তানে সংখ্যা সাম্যের ভিত্তিতে আসন সংখ্যা নির্ধারণ করার প্রস্তাব পেশ করেন যা মোহাম্মদ আলীর ফর্মুলা নামে পরিচিত। তিনি ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রথায় বগুড়া হতে জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় পরিষদের নেতা হন। একই বছর ১৩ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। তিনি ১৯৬৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ইন্তিকাল করেন। উল্লেখ্য যে, ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় আইনসভায় নবাবজাদা সৈয়দ আলতাফ আলী চৌধুরী ও তার ভ্রাতা নবাবজাদা সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী কেএসপির মনোনয়নে এবং পুত্র সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মুসলিম লীগের মনোনয়নে সদস্য নির্বাচিত হন।

সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র নবাবজাদা সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী (১৯১০-১৯৮১) কৃষক প্রজাদের স্বার্থে রাজনীতিতে যোগ দেন। হাসান চৌধুরী ১৯২৯-১৯৮১ সাল পর্যন্ত ধনবাড়ী খোদা বখশ নওয়াব আলী এস্টেটের মোতওয়ালীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ময়মনসিংহের অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। পরে কৃষক প্রজা পার্টির মনোনয়নে লোকাল বোর্ড, জেলা বোর্ডের সদস্য ও ময়মনসিংহ পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালে কৃষক প্রজা পার্টির মনোনয়নে টাঙ্গাইলের মধুপুর, গোপালপুর নির্বাচনী এলাকা হতে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। তার অর্থানুকুল্যে ময়মনসিংহ হতে প্রজা পার্টির মুখপত্র সাপ্তাহিক চাষী, কলকাতা হতে ইত্তেহাদ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পরে পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ সালে ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী (১৯৬২-৬৩) ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বিএনপির মনোনয়নে টাঙ্গাইল-১ মধুপুর নির্বাচনী এলাকা হতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে তার মৃত্যুজনিত শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে তার একমাত্র কন্যা সৈয়দা আশিকা আকবর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ